আগামীর সময়

তেল মজুদের তথ্য দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

তেল মজুদের তথ্য দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্প্রতি ‘তেল নাই’ লেখা পাম্প থেকে জব্দ হয় আড়াই হাজার লিটার তেল

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে এমনিতেই তেল নিয়ে দুশ্চিন্তা। পর্যাপ্ত তেল আছে- সরকারের এমন আশ্বাসেও দেশে ছড়িয়েছে সংকট আতঙ্ক। এর মধ্যে কয়েক জায়গা থেকে সম্প্রতি তেলের অবৈধ মজুদ জব্দের ঘটনা সামনে আসায় আলোচনা হচ্ছে ‘কৃত্রিম সংকট’ নিয়ে। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

অবৈধভাবে তেল মজুদকারীদের ধরতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলেছে, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলেই মিলবে পুরস্কার। তাদের দেয়া তথ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা। 

সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে এ বার্তা। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে... দেশে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ জনগণের জন্য আমদানি করা জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না করে গোপনে মজুত ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে। মাঠ প্রশাসন একাধিক অসাধু চক্রকে শাস্তির আওতায় এনেছে। তারপরেও বেড়েছে এই অসাধু প্রবণতা।

পরিস্থিতি বিবেচনায় অবৈধ মজুতদারির ব্যাপারে তথ্যদাতাকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। মজুতের বিষয়ে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা সম্মানি দেয়া হবে।

জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে প্রতি জেলায় গঠন করা হয়েছে ‘ভিজিল্যান্স টিম’।

বিপিসিসূত্রে জানা গেছে, মার্চের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ সরবরাহ করা হয়েছে। আগের বছর এ সময়ে দৈনিক ১২ হাজার ৭০০ টন তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। সরবরাহ বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি।

এর কারণ হিসেবে সংকট আতঙ্কে পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল নেয়া এবং ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুদকে দায়ি করছেন বিপিসি কর্মকর্তারা। গত ৬ মার্চ থেকে দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে আগের বছরের মতো করা হয়। ঈদের আগে আবার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয় সেই পরিমাণ। 

পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়াতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিসি। পাশাপাশি সারা দেশেই চলছে অভিযান।

    শেয়ার করুন: