স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধারে চলবে সাঁড়াশি অভিযান

ছবি: আগামীর সময়
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আজ বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন তিনি।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে। জাতীয় নির্বাচনের আগে জমা নেওয়া লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তিন ক্যাটাগরিতে অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে—২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগের লাইসেন্স, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইস্যুকৃত লাইসেন্স এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সময়কালে ইস্যুকৃত লাইসেন্সগুলোর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রমাণিত অস্ত্র।’
বিগত সরকারের সময়ে করা ‘গায়েবি’ ও ‘ভুয়া’ মামলা নিষ্পত্তিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন ভুক্তভোগীরা। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী ঘটনায় নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তাদের।’
ঈদুল আজহা সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘সড়ক-মহাসড়ক বা রেলপথের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকবে এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল চালু করা হবে এবং সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে মহাসড়কগুলো। যাত্রী নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ফেরিঘাটে।’
চামড়া শিল্প রক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সম্ভাব্য পুশব্যাক মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বিজিবিকে।’



