জ্বালানি বিভাগ
একদিনেই উদ্ধার ৮৭৭০০ লিটার তেল

যানবাহনের এমন লাইন সারাদেশেই দেখা যাচ্ছে
ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তবু মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পর্যুদস্ত বাংলাদেশ। কিছু মানুষের প্যানিক বায়িং আর কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারির প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। স্বস্তি ফেরাতে অবৈধ জ্বালানি তেলের মজুত ধ্বংসে চলছে সরকারি অভিযান। একদিনেই উদ্ধার ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল।
গত ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল। আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হচ্ছিল, গতকাল সোমবার ৩৯১টি অভিযান চালানো হয়েছে। মামলা হয়েছে ১৯১টি। জরিমানা আদায় হয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০ টাকা। তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সাতক্ষীরা, গাজীপুর ও চাঁদপুরের বাসিন্দা। অভিযানে ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬ হাজার ৪৪৪ লিটার অকটেন এবং ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়।
জ্বালানি বিভাগ জানাচ্ছে, মার্চে মোট ১ হাজার ২৪৪টি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৯ জনকে। আর উদ্ধার তেলের পরিমাণ যথাক্রমে ডিজেল ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার, পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার।
একইসঙ্গে দেশের বর্তমান মজুতের হিসাবও দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। তারা বলছে, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন। অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন। পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন ও জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন।
নিয়মিত আমদানি ও খালাসের কারণে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আরও জানান, বর্তমানে বড় কোনো সংকট নেই। তবে অবৈধ মজুত ও বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা ঠেকাতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
যুগ্মসচিব বলছিলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি তদারকিতে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের তদারকি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনবে বলে আশ্বস্ত করছিলেন তিনি।

