স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের বৈঠক

ছবি: আগামীর সময়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক।
দু’দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলেন তিনি, তবে গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।’
পারস্পরিক আইনগত সহায়তাসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মন্ত্রী বলেছেন, ‘বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর চাপ বাংলাদেশ একা বহন করতে পারবে না। তাদের পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।’ সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদারে গৃহীত পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন হাইকমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান। অস্ট্রেলিয়া ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের উন্নত দেশগুলোর একটি। বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী।’ তিনি জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া কাজ করছে এবং অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ।



