টাঙ্গাইলে হচ্ছে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্ট’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হঠাৎ নিভে যাচ্ছে কলকারখানার বাতি। স্থবির যন্ত্রের গতি। বেকার সময় কাটান শ্রমিক। সামগ্রিকভাবে ধস নামে উৎপাদনে। এটাই এখন কিছু কিছু এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার নিয়মিত চিত্র। গরমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে দুর্ভোগ। বিদ্যুতের এই সংকট সমাধানে আসছে বৈপ্লবিক নীতিগত পরিবর্তন।
দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা একটি চিরাচরিত পদ্ধতিতে চলছে। বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে সরকার, তা সরবরাহ হয় ভোক্তার কাছে। এবার সেই প্রথা ভাঙল সরকার; সরাসরি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে টাঙ্গাইলের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে।
গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের এই অনুমোদন নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে দেশের জ্বালানি বাজারে। শিল্প মালিকদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
শুধু তাই নয়, কমবে দামও। বর্তমানে গ্রিড বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে প্রায় ১৫ টাকা। মার্চেন্ট মডেলে উৎপাদন ও সঞ্চালন মিলিয়ে এই খরচ নামতে পারে ১০ টাকায়। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
সরাসরি কেনাবেচার নতুন মডেল
টাঙ্গাইলে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে ‘ই-ট্রাইক্যাচ টেকনোলজিস লিমিটেড’। এটি দেশের প্রথম ‘মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্ট’। এখানে সরকার ক্রেতা নয়, বরং নিয়ন্ত্রক। উদ্যোক্তারা উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি সরবরাহ করবেন বিএডিসি কোল্ড স্টোরেজ, এশিয়াটি ও লাবিব গ্রুপের মতো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে। এমনকি ক্রেতার সন্ধান ও দাম নির্ধারণের এখতিয়ারও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকের।
তবে সরকারি সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি বা ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ পরিশোধ করতে হবে উদ্যোক্তাদের। এই ফি নির্ধারণের মাধ্যমে বিদ্যুতের দর ঠিক করতে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
তিন কারণে নীতির পরিবর্তন
মূলত তিনটি কারণে এ পথে হাঁটছে সরকার। প্রথমত কার্বন চাপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে এখন বাধ্যতামূলক হচ্ছে সবুজ জ্বালানির সনদ। ফলে শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন অনিবার্য। এ ছাড়া ভর্তুকি হ্রাস এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি এর আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেছে। নেওয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও নেসকোর মতামতও। আবার উৎপাদকরা চাইলে তাদের মোট বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারের কাছেও বিক্রি করতে পারবেন— বলছে নতুন নীতি।
টাঙ্গাইলের এই প্রকল্প সফল হলে দেশ জুড়ে বিনিয়োগের জোয়ার আসবে। সরকারি কেনাবেচার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই ত্বরান্বিত হবে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন। প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হলে সাধারণ গ্রাহকরাও ভবিষ্যতের সুফল পাবেন— প্রত্যাশা জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।



