উত্তরে ট্রেন লাইনচ্যুত, কী করবেন ঈদযাত্রীরা?

সংগৃহীত ছবি
ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দের মাঝেই উত্তরবঙ্গের রেলপথে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। যাত্রার দ্বিতীয় দিনেই বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সান্তাহার-চিলাহাটি-পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। স্টেশনে অপেক্ষায় থাকা ঘরমুখো হাজারো যাত্রীর চোখে এখন উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা। কেউ পরিবারে পৌঁছাতে দেরি নিয়ে চিন্তিত, কেউ আবার কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন তা ভেবে দিশেহারা।
রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো উদ্ধারে জোর চেষ্টা চলছে। তবে এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ট্রেনেও। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস মাঝপথে আটকা পড়েছে, যা গন্তব্যে পৌঁছাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হতে পারে। একই কারণে সান্তাহার থেকে চিলাহাটি ও পঞ্চগড়গামী সব ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে রেলওয়ে। লালমনিরহাট ও রংপুরগামী ট্রেনগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে, ফলে ওই রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলক কম।
এই পরিস্থিতিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, উদ্ধার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ট্রেনের সর্বশেষ তথ্য জানাতে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। তাই যাত্রীরা যেন নিয়মিত নিজেদের ফোনে আপডেট দেখেন এবং স্টেশনের ঘোষণাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যাদের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পৌঁছানো দরকার, তারা চাইলে বিকল্প হিসেবে সড়কপথ বেছে নিতে পারেন। তবে যারা ট্রেনেই যাত্রা চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য অপেক্ষাই এখন প্রধান ভরসা। রেলওয়ে জানিয়েছে, প্রয়োজনে ট্রানশিপমেন্টের ব্যবস্থা করা হতে পারে অর্থাৎ এক জায়গা থেকে অন্য ট্রেনে যাত্রীদের তুলে দেওয়া হবে, যাতে তারা কোনোভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
এদিকে বিকেল ৫টায় ঢাকা থেকে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। রেলওয়ের আশা, ট্রেনটি সান্তাহার পৌঁছানোর আগেই লাইন সচল করা সম্ভব হবে। উদ্ধারকারী দল ও প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে ঈদযাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি না হয়।

