কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতার আশ্বাস জাপানের

ছবি: আগামীর সময়
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। আজ বুধবার রাজধানীর খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। তার সঙ্গে ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। আর জাপান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির কৃষি, বন ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রী সুজুকি নোরিকাজু। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সচিব তানাকা তাতসুআকি, সচিব নিসাকা মাকোতো এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জাপান। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায় দেশটি। আলোচনায় জাপানের ওয়াগিউ গরুর মাংস রপ্তানি ও হালাল খাদ্য খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া টেকসই কৃষি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ এবং যৌথ ঋণ ব্যবস্থার মতো কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা জোরদারের কথাও উল্লেখ করে জাপান।
আলোচনায় উন্নত কৃষি গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ। যেখানে জিনোমিক্স ও ফেনোমিক্সভিত্তিক স্পিড ব্রিডিং প্রযুক্তি এবং সবজি বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্র গুরুত্ব পায়। আম, হিমায়িত খাদ্যসহ বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্যের আমদানি বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি-ড্রোন, বিগ ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি, কাঁঠাল ও আম প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। আলোচনায় গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিতকরণকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি। কৃষির আধুনিকায়ন, যান্ত্রিকীকরণ, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল চর্চা এগিয়ে নিতে জাপানের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি।’ জাপানের দক্ষতা, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকারের মাধ্যমে শেষ হয় বৈঠকটি।



