কক্সবাজারে দুই বছরেও ঠিকাদার নিয়োগ দিতে পারেনি রেলওয়ে

ছবি: মাজেদ চৌধুরীর সৌজন্যে
পর্যটন শহর কক্সবাজারে আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। আটজন ঠিকাদার দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময়ে একটি প্রতিষ্ঠানও দরপত্র জমা দেয়নি। ঠিকাদারদের দাবি, রেলওয়ের শর্ত অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিলে লোকসান গুনতে হবে।
এখন ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেশনটির পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঠিকাদারদের চাপে দরপত্রের শর্ত শিথিল করতে বাধ্য হচ্ছে রেলওয়ে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি টাকা অফেরতযোগ্য জামানত, ১৫ কোটি টাকা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি এবং ১০ বছরের হোটেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও বার্ষিক লেনদেনের তথ্য জমা দিতে হবে। এ ছাড়া চুক্তি হবে ১০ বছরের। দরপত্রের এসব শর্তকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে বলছেন ঠিকাদাররা।
দরপত্র কেনা প্রতিষ্ঠানের একটি ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইব্রাহিম খলিল আল জায়েদের কাছে দরপত্র কেন জমা দেননি জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘রেলওয়ে শুধু ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। সেখানে শপিংমল, হোটেলসহ বিভিন্ন জোনে প্রতিষ্ঠান চালু করতে হলে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে। এর বাইরে স্টেশন ব্যবস্থাপনায় প্রচুর ব্যয় হবে। এরমধ্যে যদি রেলওয়ের কাছে ২০ কোটি টাকা আটকে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারবে না। আমার ধারণা অন্যরাও একই কারণে দরপত্রে অংশ নেননি।’
দরপত্র জমা না পড়ায় শর্তে সংশোধন আনছে রেলওয়ে। অফেরতযোগ্য জামানত ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকার পরিমাণ কমানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কিছু শর্ত শিথিল করছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন,‘দরপত্র জমা না পড়ায় কিছু শর্ত সহজ করে আবারও দরপত্র আহ্বান করা হবে। যাতে অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।’
ঝিনুকের আদলে নির্মিত দেশের এই নান্দনিক স্টেশনের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য গত ২৫ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু গত ৫ মার্চ দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখায়নি। গত ৩ মার্চ প্রকাশিত এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র কেনার সময়সীমা ৪ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। একইভাবে দরপত্র জমা দেওয়ার সময় ৫ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয়। এই সময়ের মধ্যেও কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি।
কক্সবাজারের ঝিনুক আকৃতির এই বিশাল রেলওয়ে স্টেশনটি ২২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে। ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুটের এই ছয়তলা ভবনে রয়েছে-আধুনিক টিকিট কাউন্টার ও অপেক্ষা লাউঞ্জ, ৩৯ কক্ষের উন্নত মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁ, শপিংমল ও রিটেইল আউটলেট, মাল্টিপারপাস হল ও লকার সুবিধা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। স্টেশনটি চালু হয় একই বছরের ডিসেম্বরে।



