আগামীর সময়

হাদি হত্যা: ভারতে আসামিদের জেরায় ‘অ্যাক্সেস’ মেলেনি এখনও

হাদি হত্যা: ভারতে আসামিদের জেরায় ‘অ্যাক্সেস’ মেলেনি এখনও

ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি হয় গত ৭ মার্চ। সেদিন ভারত থেকে খবর মেলে, মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।

আসামিদের সঙ্গে কথা বলতে দুদিন পরই কনস্যুলার অ্যাক্সেস বা সাক্ষাতের আবেদন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হন মামলার আরেক আসামি ফিলিপ সাংমা। পরদিন তাকে জেরার জন্য আরেকদফা চাওয়া হয় কনস্যুলার অ্যাকসেস। 

ভারতের পক্ষ থেকে এসব আবেদনে এখনও মেলেনি সাড়া। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলছেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন,  ‘বাংলাদেশের চাওয়া কনস্যুলার অ্যাক্সেস এখনও প্রক্রিয়াধীন। অ্যাক্সেস পেলেই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখানে যাবে আমাদের প্রতিনিধিদল।’

‘আমাদের সরকার সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদের ফেরত আনতে। আমাদের তরফ থেকে সম্পূর্ণ চেষ্টা চলছে, আমরা আশা করছি, ভারত আমাদের সহযোগিতা করবে’- প্রত্যাশা প্রতিমন্ত্রীর।

প্রথম দফায় গত ৯ মার্চ দুই আসামির জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়ে আবেদন করে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। তৃতীয় আসামিকে গ্রেপ্তারের খবরে রবিবার আরেক দফা দেয়া হয় আবেদন।

উপ-হাইকমিশনসূত্র বলছে, গ্রেপ্তার ফিলিপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারত সরকারের কাছে দ্রুত কনস্যুলার অ্যাকসেস দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান ও পরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান ওসমান হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দিয়েছিলেন নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়।

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। দুইদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। গত ১৮ ডিসেম্বর আসে তার মৃত্যুর খবর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে হাদিকে।

গুলির ঘটনার দুইদিন পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টার মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। ডিবি পুলিশের তদন্তে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। আসামিদের মধ্যে আছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের মা-বাবা-স্ত্রী-শ্যালক ও বান্ধবী।

ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে গত ১৫ জানুয়ারি অসন্তোষ জানিয়ে না-রাজি দাখিল করেন মামলার বাদী জাবের। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতে’ আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগীরা হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে।

    শেয়ার করুন: