আগামীর সময়

ইরান যুদ্ধে না জড়িয়েও ভুক্তভোগী ইউরোপ

ইরান যুদ্ধে না জড়িয়েও ভুক্তভোগী ইউরোপ

এআই নির্মিত ছবি

ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের অংশ না হলেও এর প্রভাব থেকে তারা বাঁচবে না। যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কা হলো কৌশলগত বিভাজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ইরান যুদ্ধের বিষয়ে একমত নয়। কিছু দেশ যেমন জার্মানি ইসরায়েলের সমর্থক, আবার স্পেন তীব্র বিরোধিতা করছে। এই বিভাজন ইউরোপের কৌশলগত সংকটের প্রতিফলন।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইউরোপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ করে, সেখানে ইতিমধ্যেই বিঘ্ন ঘটেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইউরোপে জ্বালানির দাম বাড়বে, যা ইউরোপের অর্থনীতি আরও চাপের মধ্যে ফেলবে। বিশেষত ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপের জন্য। এই সংকট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

প্রবাসী চাপ ইউরোপের জন্য নতুন এক বিপদ হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো বড় যুদ্ধের পর সাধারণত অনেক মানুষ শরণার্থী হয়ে ইউরোপে আসতে শুরু করে। ইরান যুদ্ধও সেই পথে এগোতে পারে। ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইরান থেকে বাড়তে পারে শরণার্থীর চাপ। এর ফলে, ইউরোপের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। অঞ্চলটিতে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর থেকে এখনো সেই অস্থিরতা বিরাজমান। রাজনৈতিক আন্দোলন বিশেষত পপুলিস্ট ও দক্ষিণপন্থী দলগুলো শরণার্থী ইস্যুকে তাদের নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে।

এছাড়া, বিশ্ব বাজারও অস্থিরতা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে পণ্য ও সামরিক খাতে অস্থিরতা বাড়ছে। ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের যারা সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে থেকে জড়িত তারা নতুন ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।

এই সব সমস্যার মধ্যে ইউরোপের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো কৌশলগত স্বাধীনতা। ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে নিজের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার কথা বলছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করছে ইউরোপ অতটা স্বাধীন নয়। জার্মানি নির্ভরশীল মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর, আর স্পেন ইউরোপীয় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলছে। তবে, দুই দেশই একই অসুবিধার সম্মুখীন: ইরান যুদ্ধের ফলাফলে ইউরোপের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, কিন্তু ইউরোপ এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

অতএব, ইউরোপ ইরান যুদ্ধের সরাসরি অংশ না হলেও, এর পরিণতি থেকে বাঁচতে পারবে না। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব, যেমন জ্বালানি দাম বৃদ্ধি, শরণার্থী সঙ্কট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন–ইউরোপ সম্পর্কের চাপ, ইউরোপের জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

লেখক- লন্ডনভিত্তিক পলিটিক্যাল রিস্ক কনসাল্টেন্ট ও আইনজীবী

    শেয়ার করুন: