ফেসবুকে বাজে মন্তব্য করছেন, হারাতে পারেন চাকরি

ছবি-এ আই
সামাজিকমাধ্যমে কোনো একটি বিষয়ে ভালো লাগল না, করে ফেললেন বাজে মন্তব্য। কোনো নায়িকা একটি ছবি আপলোড করেছেন, আপনি সেটা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে ফেললেন। হয়তো ভাবলেন কেউ দেখছে না কিংবা আপনি কিছুই ভাবলেন না। ভাবলেন না যে, সামাজিকমাধ্যমের এ অসামাজিক মন্তব্য আপনাকে সমাজে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে। ভাবতেও পারেননি, একটি মন্তব্য আপনাকে চাকরিহীন করে ফেলতে পারে, পরিবারের কাছেও লজ্জায় ফেলতে পারে। সামাজিকমাধ্যমে মেয়েরা এখন প্রতিবাদ করছেন। সেই প্রতিবাদের ধরন আলাদা; কিন্তু ব্যাপক শক্তিশালী ও কার্যকর।
আপনাদের মনে থাকতেই পারে, কিছুদিন আগে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার একটি পোস্টে কটু মন্তব্য করেছিলেন এক তরুণ। শবনম ফারিয়া ওই তরুণের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে তার কর্মস্থলের নাম দেখেন। পরে তার প্রোফাইলের স্ক্রিনশট দিয়ে পোস্ট করেন। ট্যাগ করেন ওই তরুণের প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল পেজকে। প্রতিষ্ঠানটি সাড়া দেয়। তারা জানায়, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে ওই তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায় প্রতিষ্ঠানটি এবং তাকে সাজিদা ফাউন্ডেশন থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
গতকাল বুধবার রিমানা নামের এক তরুণী একই পথে হাঁটলেন। নিজের প্রোফাইলে কটূক্তি ও সাইবার বুলিং করা অন্তত ১০ জনের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠিয়েছেন। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তরুণী উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও লিংকডইন ঘেঁটে তাদের পরিচয়, কর্মস্থল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পরে স্ক্রিনশটসহ বিস্তারিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইলে পাঠিয়েছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তাকেও সেই মেইলে সিসি করা হয়েছিল।
অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত দুজনের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে
অভিযোগ পাঠানোর পর এরই মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে জবাব পেয়েছেন রিমানা। তার ধারণা, আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকেও সাড়া পাওয়া যাবে। রিমানা ফেসবুকে বলেছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত দুজনের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে।
রিমানা বলেছেন, চাকরি যাক বা না যাক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্তত জানতে পারবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্যদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারেন। এতে কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি হবে এবং অন্যরাও সতর্ক থাকতে পারবেন। কাউকে অপমান বা হেনস্তা করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। শুধু সামাজিকমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে থেমে না থেকে প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চাকরি যাক বা না যাক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্তত জানতে পারবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্যদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারেন
অতীতেও বিভিন্ন হয়রানির ঘটনায় রিমানা আইনি সহায়তা চেয়েছেন এবং সহযোগিতা পেয়েছেন। সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে এটিকে নিজের ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
‘চাকরি যাক বা না যাক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্তত জানতে পারবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্যদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারেন’ এ বাক্যটি সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে যারা জয়া আহসানের পোস্টে অশালীন মন্তব্য করে বসেন, কিংবা কোনো নারী একটি পোস্ট দিলে সেখানে বাজে মন্তব্য করে আসেন। এমন একটি অশালীন মন্তব্যই আপনাকে চাকরিহীন ও বেকার করে দিতে পারে। আর এমন অভিযোগে চাকরি গেলে নতুন চাকরি পাওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে। এটি আপনার ক্যারিয়ারে এমন একটি অমোচনীয় কালো দাগ ফেলে দিতে পারে, যা সহজে মুছে যাওয়ার নয়।



