আগামীর সময়

ফয়সাল-আলমগীরকে যেভাবে ভারত থেকে ফেরত আনা সম্ভব

ফয়সাল-আলমগীরকে যেভাবে ভারত থেকে ফেরত আনা সম্ভব

সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। রবিবার (৮ মার্চ) এসটিএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হাদি হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের পর থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশ এসব অপরাধীদের ফেরত পেতে পারে? নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে অপরাধী বিনিময়ের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের ‘প্রত্যর্পণ চুক্তি’ থাকায় এখন তাদের ফিরিয়ে আনার পথটি আইনিভাবে সম্ভব।

এই চুক্তির অধীনে কোনো এক দেশে অপরাধ করে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি যতটা সরল মনে হয়, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক ধাপ।

২০১৬ সালে এই চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়। যা হাদি হত্যা মামলার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। আগে কোনো আসামিকে ফিরিয়ে আনতে হলে তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে হতো।

সংশোধিত চুক্তির অনুচ্ছেদ ১০ (৩) অনুযায়ী, এখন আর আলাদা করে প্রমাণের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র বাংলাদেশের কোনো আদালত থেকে ইস্যু করা ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’ থাকলেই ভারত সরকার ওই আসামিকে হস্তান্তর করতে পারে।

হাদি হত্যা মামলায় ফয়সালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং খুনের মামলা রয়েছে। একইসঙ্গে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ফয়সালের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত।

হস্তান্তরের শর্ত
আসামিদের ফিরিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশকে কয়েকটি আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন: দ্বৈত অপরাধনীতির আওতায় অপরাধটি দুই দেশেই দণ্ডযোগ্য হতে হবে। অপরাধের সাজা অন্তত এক বছরের কারাদণ্ড হতে হবে।

প্রত্যর্পণ চুক্তিতে একটি সাধারণ ধারা রয়েছে, রাজনৈতিক প্রকৃতির কোনো অপরাধের জন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না।

তবে ২০১৩ সালের এই চুক্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে হত্যা, খুনের চেষ্টা, জখম করা, অপহরণ বা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড কখনোই ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে আসামিরা যদি দাবিও করে যে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, খুনের মামলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক আইন অনুযায়ী সেই দাবি কার্যকর হবে না।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার ধাপ
শুরুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাতে হবে। এরপর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আবেদনটি খতিয়ে দেখবে। আদালতের মাধ্যমে আসামিদের পরিচয় ও মামলার গুরুত্ব যাচাই করবে।

এরপর ভারতের সংশ্লিষ্ট আদালত যদি মনে করে যে বাংলাদেশের আবেদনটি চুক্তির শর্ত মেনে করা হয়েছে, তবে তারা আসামিদের হস্তান্তর করার নির্দেশ দেবেন। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (বিজিবি-বিএসএফ বা পুলিশ) সীমান্তে আসামিদের বিনিময় করবে।

আসামি ফেরত দেওয়ার নজির রয়েছে
শেখ মুজিবুর রহমানের দুই হত্যাকারীকে ২০২০ সালে ভারত বাংলাদেশকে ফেরত দিয়েছিল। হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ঝুঁকি থাকলেও সেসময় তাদের ফেরত দেওয়া হয়। তারা হলেন সেনাবাহিনীর রিসালদার মোসলেউদ্দিন এবং ক্যাপ্টেন আব্দুল মজিদ। এরমধ্যে ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল ক্যাপ্টেন আব্দুল মজিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

অপরদিকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফার জেনারেল সেক্রেটারি অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দিয়েছিল বাংলাদেশ।

    শেয়ার করুন: