আগামীর সময়

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

ফাইল ছবি

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,

শুভেচ্ছা নেবেন।

আমি ঢাকায় আসার পর থেকে ক্যান্টনমেন্ট, ভাসানটেক ও মিরপুর এলাকায় বসবাস করছি। এই চিঠিতে রাজধানীর একটি নির্দিষ্ট সড়কের চিত্র আপনার সামনে তুলে ধরতে চাই। কারণ বহুদিন ধরে দেখে আসছি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচ্ছিন্ন উদ্যোগেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। এলাকাটি আপনার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এখানকার মানুষের ভোটেই আপনি নির্বাচিত। সেই আস্থার জায়গা থেকেই আপনার কাছে লিখছি।

মিরপুর-১৪ থেকে ভাসানটেক বাজারের মোড় পর্যন্ত দুই লেনের যে সড়কটি পাকা করা হয়েছে, সেটি আজ কার্যত দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্কিং, নির্মাণসামগ্রী রাখা, অস্থায়ী ওয়ার্কশপ, পুরোনো জিনিসপত্রের দোকান, গাড়ি মেরামত ও বিভিন্ন বেচাকেনার কারণে দুই লেনের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা প্রায় প্রতিদিনই দখল হয়ে থাকে। ফলে সড়কটি তার প্রকৃত সক্ষমতা হারিয়েছে।

ভাসানটেক মোড়ের কাছেই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই পথ ধরে মাটিকাটা হয়ে ইসিবি চত্বরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত যানজটে আটকে পড়েন। আগে সড়কটি পুরোপুরি পাকা ছিল না। পরে প্রশস্ত করে পাকা করার পরও স্বস্তি মেলেনি। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি আবার দখলে চলে যায়। উন্নয়নের সুফল মানুষ পায়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। সকালে উচ্ছেদ হয়েছে, বিকেলে আবার দখল ফিরে এসেছে। ফুটপাত তো অনেক আগেই দখল হয়েছে, এখন রাস্তাও অর্ধেক হারিয়েছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে এমনভাবে চলতে শুরু করেছে যে অনেকে একে স্বাভাবিক বলে ধরে নিচ্ছেন। এই মানসিকতা আরও উদ্বেগজনক।

আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য গাড়ি ধোয়ার অস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ওয়াসার পানি ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি অপচয় করা হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় যখন পানির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন এই চিত্র মানুষকে হতাশ করে। একদিকে বাসিন্দারা পানির জন্য ভোগেন, অন্যদিকে একই এলাকায় অবৈধভাবে পানি ব্যবহার হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজে।

অনেকে ভাবতে পারেন, ঢাকা শহরে এত বড় বড় সমস্যা থাকতে একটি সড়ক নিয়ে কেন এই চিঠি। কিন্তু বিষয়টি কেবল একটি রাস্তার নয়। এটি আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। বারবার উচ্ছেদের পরও যদি দখল ফিরে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, কারা এত প্রভাবশালী যে আইন তাদের স্পর্শ করতে পারে না।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল মানুষ ভোগ করতে পারে। একটি পাকা সড়ক যদি দখলের কারণে ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তবে সেই উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না। তাই অনুরোধ করছি, মিরপুর-১৪ থেকে ভাসানটেক পর্যন্ত সড়কটি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অবৈধ পানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার হস্তক্ষেপে নিশ্চয়ই এই সড়কটি আবার মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। ভাসানটেকবাসী এবং প্রতিদিন এই পথ ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ স্বস্তি পাবে। সেই প্রত্যাশাতেই এই চিঠি।

ধন্যবাদান্তে,

এই রাস্তায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী একজন নাগরিক।

    শেয়ার করুন: