আগামীর সময়

রমজানে ৩৮ দিন স্কুল ছুটি, কার লাভ কার ক্ষতি

রমজানে ৩৮ দিন স্কুল ছুটি, কার লাভ কার ক্ষতি

সংগৃহীত ছবি

দেশের সব প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি। চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। ৩৮ দিন ছুটির পর আগামী ২৯ মার্চ থেকে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এত বড় ছুটিতে কার লাভ ও কার ক্ষতি হলো? রোজায় ক্লাস চললে তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই কষ্টকর হয়। তাই পুরো রোজায় ছুটি থাকলে এ দুই পক্ষই খুশি থাকে। বাচ্চাদের স্কুলে দেওয়া-নেওয়া থেকে অব্যাহতি পেয়ে অভিভাবকরাও কিছুটা সুবিধা পান। সেইসঙ্গে বড় শহরগুলোতে যানজট কমার একটি বাড়তি সুবিধা আছে। তবে ক্ষতি হলো শিক্ষার্থীদের, দেশের শিক্ষার, সামগ্রীকভাবে দেশের।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় রমজান ও ঈদের ছুটি ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সেই অনুযায়ী স্কুলগুলো তাদের নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে। ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রমজান ও ঈদের ১৮ দিন ছুটিই পৃথিবীর সব মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো মুসলিম দেশে রমজান ও ঈদের ছুটি মিলিয়ে ১৮ দিন নেই।

কয়েকটি মুসলিম দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশ ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঘেঁটে এই রমজান ও ঈদের ছুটি বিষয়ে জানা যায়, মিশরে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ৪ দিন, তুরস্কে ১৯ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ৪ দিন, মালয়েশিয়ায় ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ১২ দিন, সৌদি আরবে ৮ দিন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫ দিন, কাতারে ৯ দিন, ওমানে ৯ দিন, কুয়েতে ৯ দিন, বাহরাইনে ৫ দিন ছুটি থাকবে। তবে বর্ণিত সব দেশেই রোজার সময় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় ক্লাস ডিউরেশন কমিয়ে (৩-৫ ঘণ্টা) আনা হয়।

এসব জেনেশুনেও আমাদের রমজান ও ঈদের ছুটি বাড়িয়ে ৩৮ দিনে উন্নীত করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। অতিরিক্ত ছুটির ১০ দিনের শিখন ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে তার কোনো রূপরেখা নেই। আসলে এই শিখন ঘাটতি পূরণের কোনো সম্ভাবনা নেই। তার উপর খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যার মতো প্রাকৃতিক কারণ ও এসএসসি ও এইসএসসি পরীক্ষা গ্রহণের মতো অনিবার্য কারণেও অনেক প্রতিষ্ঠানে আরও অনেক ক্লাস বাদ যায়।

রমজানে এত বড় ছুটি যে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর তা বোঝা যায় শহরের স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দেখে। প্রায় সব শিক্ষার্থী স্কুলে ও কোচিং সেন্টারে কোচিং করছে, সব এমপিও বেসরকারি স্কুল ও কলেজে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট নেওয়া হচ্ছে। তাহলে সরকারি ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে লাভ কি হলো?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতির আশা নেই। আমাদের শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রেণিকার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার উপায় খুঁজতেই হবে।

লেখক : শিক্ষক ও লেখক

    শেয়ার করুন: