আগামীর সময়

স্থায়ী কমিটির বৈঠক

সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বিএনপি

  • ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল
  • দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা
  • ঢেলে সাজানো হবে অঙ্গ সংগঠনগুলো
সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বিএনপি

গ্রাফিক্স। আগামীর সময়

সরকারের ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করেছে বিএনপি। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে দলটি। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পরে সাফল্যের সঙ্গে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর এটি ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করা হয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর যে তৎপরতা ও ব্যস্ততা—তিনি যে এর পেছনে সার্বক্ষণিক লেগে আছেন; সচিবালয়ে সকাল ৯টায় অফিস করা থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজে তার কর্মতৎপরতা, এমনকি ছুটির দিনেও অফিস করা ও কাজের মধ্যে থাকা এসবের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

বিএনপি নেতাদের পর্যালোচনায় উঠে আসে, সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন- এই উদ্যোগগুলো জনমনে খুবই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলেছে। বিএনপি যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার যে অঙ্গীকারাবদ্ধ, আলোচনায় সেটিও উঠে এসেছে।

বিএনপি নেতাদের মূল্যায়ন, সরকারের ১৮০ দিনের যে পরিকল্পনা রয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা। এবং নির্বাচনী প্রধান ৯টি যে প্রতিশ্রুতি, সেগুলোও বাস্তবায়নে সঠিকভাবে কাজ করা।

সংসদে এখন গণভোট নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সে বিষয়টি নেতারা আবারও তুলে ধরেন বৈঠকে।

তারা জানান, নোট অব ডিসেন্ট বাদে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার। সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে বিএনপি এর আগে স্পষ্ট করে বলেছিল, নোট অব ডিসেন্টসহ সনদের বিষয়গুলো প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে। এবং জনগণ ভোট দিলে সে অনুযায়ী তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি যেভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে তারা সেটি বাস্তবায়নও করবে। আর এ জন্য আগামী দিনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নেবে সরকার।

স্থায়ী কমিটির আলোচনায় দল পুনর্গঠন এবং জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টিও উঠে আসে। জাতীয় নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি।

দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিলরেরও চিন্তা করছে তারা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। ২০১৬ সালে দলটির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এদিকে দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মধ্যে অধিকাংশ এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ। তাছাড়া বিগত নির্বাচনে অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এবং কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজিব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীও হন। এতে করে অঙ্গ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কোরবানির ঈদের আগে বিএনপির কাউন্সিল হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেছেন, ‘ঈদের আগে সম্ভব নয়। এজন্য কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়ালি), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়ালি) ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    শেয়ার করুন: