সব নথি জব্দের নির্দেশ
সেই ৩ আসনে বিজয়ী-বিজিত প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান কত?

বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন, হামিদুর রহমান ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনটি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর প্রেক্ষিতে আসনের সব ব্যালট পেপার রেজাল্ট শিটসহ সব নথি হাইকোর্টের হেফাজতে নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। আসনগুলো হলো— ঢাকা-৬, ৭ ও গাইবান্ধা-৪।
ইসি সূত্র জানায়— ঢাকা-৬ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন। ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পান ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারান।
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট।
গাইবান্ধা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল রহিম সরকার পান ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়। এরপর একই দিন এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে ইতোমধ্যে গেজেটও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় এখনো দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং গেজেট জারি করা হয়নি। আরো তিনটি আসনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হলো।

