আগামীর সময়

বিএনপি ‘প্রীতি’র পরও রাষ্ট্রপতির চেয়ার কি টিকবে?

বিএনপি ‘প্রীতি’র পরও রাষ্ট্রপতির চেয়ার কি টিকবে?

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি

‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে তুলেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

গত রবিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এর দুই দিন আগে ৬ মার্চ ‘জাতীয় পাট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে বক্তব্য শেষ করে আলোচনার জন্ম দেন রাষ্ট্রপতি।

শুধু এই দুই দিনের বক্তব্য নয়, সম্প্রতি একাধিকবার বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রশংসা করতে দেখা গেছে মো. সাহাবুদ্দিনকে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।

যখন তার থাকা না থাকা নিয়ে চতুর্দিকে আলোচনা, সে সময় রাষ্ট্রপতির এমন ‘বিএনপি প্রীতি’ রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতির আচরণে পরিবর্তন এসেছে। প্রায় গৃহবন্দি থাকা রাষ্ট্রপতি এখন কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। বিএনপির প্রশংসা যেমন করছেন, তেমনই বিএনপির পক্ষ থেকেও নমনীয় ভাব রয়েছে তার প্রতি। তবে রাষ্ট্রপতি বহাল থাকবেন কিনা, থাকলেও তা কত সময়— বিষয়টি নতুন জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরুর পর স্পষ্ট হতে পারে।

২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের মানুষ সাহাবুদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর পথে নেমে প্রতিবাদ করায় তরুণ ছাত্রনেতা সাহাবুদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তিন বছর জেলে ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে সব সময় তার বক্তব্য ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শেষ করতেন। তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ও বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো তাকে প্রকাশ্যে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলতে দেখা গেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একসময় তার বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অবৈধ সামরিক শাসক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এই সময়ে এসে সেই জিয়াউর রহমানের প্রশংসা এবং তাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই বক্তব্যে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার হাত ধরে 'মহান মুক্তিযুদ্ধ তছনছ' করা হয়েছিল বলা রাষ্ট্রপতি বিএনপিকেই মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক হিসেবে অবহিত করছেন।

শুধু জিয়াউর রহমান কিংবা খালেদা জিয়া নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানেরও ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেছে রাষ্ট্রপতির মুখে। তার এমন পরিবর্তনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন খোদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রপতির মুণ্ডপাত করাও শুরু করেছেন।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তার সঙ্গে খুব অল্প সময় দেখা হয়েছে এবং টুকটাক কিছু কথা হয়েছে। দেখলাম যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি তার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

রাষ্ট্রপতি সেদিন আরও বলেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে।

‘এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়, বিশেষ করে তার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে। তাই দেশের ভালো করবেন তিনি, এই বিশ্বাস রাখি’, যোগ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি বেশ পুরোনো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে এ দাবি জানানো হয়। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি বিএনপি সরকার গঠনের পর একটি দৈনিকে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে আবারও এই আলোচনাটি সামনে এসেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বে আসেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু মেয়াদ রয়েছে, সেহেতু মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে অভিশংসনের প্রয়োজন হয় না। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসিত করা যায়। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসনের প্রস্তাব দিতে হয় স্পিকারের কাছে । নোটিশ দেওয়ার ১৪ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে এ প্রস্তাব আলোচিত হতে হয়। তারপর সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে সে তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রপতির অভিশংসিত হওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশে এর আগে সব সময় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে এসেছে। ২০০১ সালের নভেম্বরে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ২০০২ সালে অপসারণের উদ্যোগ নেয় তখনকার সরকার। সংসদে সেই প্রস্তুতির মধ্যে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

দলগুলোর অবস্থান কী?

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখা হবে নাকি অপসারণ করা হবে- এ নিয়ে দুই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে।

জানা গেছে, ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করার প্রস্তাব করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির অভিসংশনের প্রস্তাব উত্থাপনের ব্যাপারে ইতিবাচক ১১ দলীয় জোট।

এনসিপির এই নেতা আশা প্রকাশ করে আরও বলেছেন, জোটের সব দল এই প্রস্তাব উত্থাপনের ব্যাপারে ইতিবাচক থাকবে বলে আমরা মনে করি।

১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই আর থাকতে পারেন না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে সরানোর দাবি জানানো হয়। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাকে সরায়নি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সংসদ নির্বাচনের পর সেই বাধা আর থাকলো না।

তারা আরও বলছেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই প্রস্তাব জানানো হবে। তবে যেহেতু সরকারি দল বিএনপি, এই প্রস্তাবে তারা সম্মতি না দিলে এটি কার্যকর হবে না।

১১ দলীয় জোটের নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রস্তাব সংসদ তোলা হলে বিএনপি জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে।

বিএনপিকে যদিও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির বিষয়ে নমনীয় মনে হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ কিংবা অভিশংসনের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত দলের ভেতরে জোর আলোচনা নেই। বরং বিভিন্ন দলের বিরোধিতা থাকলেও সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আপাতত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চিন্তা নেই সরকারের। মেয়াদের শেষ পর্যন্ত রাখা হবে কি-না তার নিশ্চয়তা না থাকলেও আপাতত এ নিয়ে ভাবছে না দল।

এই ইস্যুতে সরকারে থাকা বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা মনে করছেন, আপাতত মো. সাহাবুদ্দিনকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল রাখা উচিত। তাদের মতে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে জাতীয় নির্বাচনের জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার মেয়াদ পাঁচ বছর পর এই সরকারের মেয়াদের সঙ্গেই শেষ হবে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময় বিএনপির রাষ্ট্রপতি নাও থাকতে পারে এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান না থাকলে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির এই নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের দায়িত্ব।

এর কারণ হিসেবে নাহিদ উল্লেখ করেছেন, এই রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন। কাজেই আমরা মনে করি ফ্যাসিস্ট সময়ের চিহ্ন যে রাষ্ট্রপতি, তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।

একটি গণমাধ্যমে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে টেনে নাহিদ এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি (রাষ্ট্রপতি) যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেটাতেও শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এ রাষ্ট্রপতি আর এই দায়িত্বে এই পদে থাকার যোগ্য নন।

এই পরিস্থিতিতে কী করণীয় সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ এ নেতা। তার মতে, সংসদের যে প্রথম অধিবেশন হবে, তার প্রথম কাজটি হবে এই ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।

নাহিদের প্রত্যাশা, নতুন সংসদের সরকারি দল, বিরোধী দল মিলে কাজটি করবে।

‘কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে’, যোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

তবে এক্ষেত্রে একটু কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ইস্যুতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে জামায়াতে ইসলামী।

যদিও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন প্রস্তাবের বিষয়ে তারা ইতিবাচক।

নিজ বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন রাষ্ট্রপতি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কমপক্ষে দুই দফায় রাষ্ট্রপতির অপসারণ কিংবা পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাও কিংবা বড় ধরনের চাপ তৈরি করা হলেও মো. সাহাবুদ্দিন থেকে গেছেন বঙ্গভবনেই। তখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সে সময় তাকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। একধরনের গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন বলেও মনে করা হয়।

ভোটের আগে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান।

কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতি সে সময় উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি অপমানিত বোধ করছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। এরপর গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।

এদিকে মো: সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে তার আগের অবস্থান থেকেও কিছুটা সরে এসেছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিএনপি যদি মনে করে, তারা নিজেদের মতো রাষ্ট্রপতি চায়, সে ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? জবাবে তিনি বলেছেন, যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো, তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা সংসদে ভাষণের অনুমতি না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অথবা প্রধানমন্ত্রী যেন তার সুবিধামতো ব্যবস্থা নেন—সে অনুরোধ জানানো হয়।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিএনপির এই নেতা বলেছেন, নতুন সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। আমরা সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার রেওয়াজ আছে। সে অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

    শেয়ার করুন: