হাদিসের কথা
অপ্রয়োজনীয়তা বর্জনই ইসলামের সৌন্দর্য

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক পরিপাট্য বা কথার মাধুর্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তার আচরণ, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণে। একজন মুমিন তখনই পরিপূর্ণতার দিকে অগ্রসর হয়, যখন সে নিজের কথা, কাজ ও সময়কে অর্থবহ করে তোলে এবং অনর্থক, অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখে। ইসলাম মানুষের এই অভ্যন্তরীণ শুদ্ধতা ও শালীনতাকে প্রকৃত সৌন্দর্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসে বলেছেন—
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক আচরণ ত্যাগ করা। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)
এ হাদিসটি ইসলামি আখলাক ও আত্মশুদ্ধির একটি মৌলিক নীতিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীরভাবে তুলে ধরেছে। ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য’— এ বাক্যাংশটি বুঝিয়ে দেয়, ইসলাম কেবল কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়; বরং একজন মানুষের সার্বিক জীবনধারা, তার চিন্তা, কথা ও কাজের পরিমিতি। সবকিছুর মধ্যে ইসলামের সৌন্দর্য প্রতিফলিত হয়।
‘অনর্থক আচরণ ত্যাগ করা’— এর দ্বারা এমন সব কথা, কাজ ও চিন্তাকে বোঝানো হয়েছে, যার কোনো উপকার নেই; না দুনিয়ার জন্য, না আখিরাতের জন্য। অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাকগলানো, সময় নষ্ট করে এমন কাজে লিপ্ত হওয়া, অর্থহীন বিতর্কে জড়ানো; এসবই এর অন্তর্ভুক্ত। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো সরাসরি গুনাহ না হলেও এগুলো মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে কঠিন করে তোলে এবং তাকে গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়।
এ হাদিসের একটি সূক্ষ্ম দিক হলো, এটি ‘ত্যাগ করার’ ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অর্থাৎ একজন মুমিন শুধু ভালো কাজ করলেই যথেষ্ট নয়; বরং যে কাজগুলো তার জন্য অপ্রয়োজনীয়, সেগুলো থেকেও সচেতনভাবে বিরত থাকা তার চরিত্রের সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণ করে। ইমাম নববী (রহ.) এই হাদিসকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন, মানুষের উত্তম ইসলামের পরিচয়ই হলো; সে এমন বিষয় ছেড়ে দেয়, যা তার কোনো কাজে আসে না।
বাস্তব জীবনে এ হাদিস আমাদের সময় ব্যবস্থাপনা, কথাবার্তার সংযম এবং সামাজিক আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও কাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, সে অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকে, সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে এবং ধীরে ধীরে একজন পরিণত, মার্জিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসটি আমাদের শেখায়, জীবনকে অর্থবহ করতে হলে শুধু ভালো কাজ বাড়ানোই নয়; বরং অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়াই প্রকৃত ইসলামের সৌন্দর্যের চাবিকাঠি।



