হাদিসের কথা
ওয়ালিমার যে দাওয়াতকে হাদিসে নিকৃষ্ট বলা হয়েছে
- ওয়ালিমার প্রকৃত সৌন্দর্য সমতা ও আন্তরিকতায়
- ধনী-গরিব সবার জন্য উন্মুক্ত হোক ওয়ালিমার আনন্দ

প্রতীকী ছবি
মানুষের সামাজিক জীবনে দাওয়াত ও আপ্যায়ন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানবিকতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষত ওয়ালিমা; যা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। তা হওয়া উচিত এমন এক আয়োজন, যেখানে সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। ইসলাম এ ক্ষেত্রেও ভারসাম্য, ন্যায় ও অন্তর্ভুক্তির শিক্ষা দিয়েছে, যেন আনন্দের মুহূর্তগুলো কেবল ধনীদের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা গরিব-দুঃখীর হৃদয়েও পৌঁছে যায়। হাদিসে বলা হয়েছে-
আবু হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ওয়ালিমায় কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না, সেই ওয়ালিমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তার রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৭৭)
এই হাদিসে রাসুল (সা.) সামাজিক বৈষম্যের এক সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর দিকের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যখন কোনো দাওয়াত শুধু ধনীদের জন্য সীমাবদ্ধ হয়, তখন তা আর ইবাদতের অংশ থাকে না; বরং তা অহংকার ও সামাজিক বিভাজনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম চায়, মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা গড়ে উঠুক। যেখানে গরিবের উপস্থিতি অবহেলার নয়, বরং বরকতের কারণ।
অন্যদিকে, দাওয়াত গ্রহণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কোনো শরয়ী ওজর ছাড়া দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এতে সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আলেমগণের ভাষ্য হচ্ছে- যদি দাওয়াতে শরিয়তবিরোধী কিছু থাকে বা স্পষ্ট অন্যায় প্রচলিত থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে দাওয়াত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই হাদীস আমাদের শিখায় যে, ইসলামে আনন্দ-আয়োজনও একটি ইবাদত, যদি তা সমতা, আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতির সাথে সম্পন্ন হয়; আর যদি তা বৈষম্য ও অহংকারে ভরে ওঠে, তবে সেটিই হয়ে ওঠে নিকৃষ্ট।



