মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের ফজিলত ও আদব

সংগৃহীত ছবি
বাইতুল্লার জিয়ারত ও হজ আদায়ের পর মুমিন হৃদয়ের তৃষ্ণা যেন আরও বেড়ে যায়। মক্কা থেকে বিদায় নিয়ে হৃদয়ে গভীর আবেগ, কম্পিত বক্ষ আর অশ্রুসজল নয়ন নিয়ে তারা হাজির হন রাহমাতুল্লিল আলামিনের পবিত্র দরবারে। এই সফর কেবল ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম নয়, বরং এটি হৃদয়ের এক গভীর আধ্যাত্মিক যাত্রা।
জিয়ারতের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের অশেষ সওয়াব ও গুরুত্ব হাদিস শরীফে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (সুনানে দারেকুতনী-২৬৬৯)
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় মদিনায় এসে আমার জিয়ারত করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার সাক্ষী ও শাফায়াতকারী হবো।’ (বায়হাকী শুআবুল ঈমান-৪১৫৭)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ আদায় করল, অতঃপর আমার ইন্তেকালের পর আমার কবর জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমাকে জিয়ারত করল।’ (বায়হাকী শুআবুল ঈমান-৪১৫৪)
জিয়ারতের আদব
পবিত্র মদিনা মোনাওয়ারা ও রওজা মোবারকে হাজির হওয়ার সময় নির্দিষ্ট কিছু আদব ও শিষ্টাচার পালন করা মুমিনের প্রেমের দাবি। উল্লেখযোগ্য আদবসমূহ হলো:
১. মদিনায় প্রবেশের পূর্বে সম্ভব হলে গোসল করা এবং উত্তমরূপে ওজু করে পবিত্রতা অর্জন করা।
২. পরিষ্কার, মার্জিত ও সুন্নাতসম্মত পোশাক পরিধান করা।
৩. মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে নফল নামাজ (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) আদায় করা এবং বিনম্র হৃদয়ে নিজের গুনাহের জন্য তওবা করা।
৪. অত্যন্ত নম্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে শহরে প্রবেশ করা। মনে এই অনুভূতি রাখা যে, আমি দু'জাহানের সম্রাট ও সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মহামানবের দরবারে হাজির হচ্ছি।
পরিশেষে, মদিনার এই সফর কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি হৃদয়ের মণিকোঠায় ভালোবাসা জিইয়ে রাখার অনন্য মাধ্যম। প্রতিটি হাজি ও জিয়ারতকারীর উচিত পূর্ণ আদব ও মহব্বতের সাথে এই পবিত্র ভূমি সফর করা।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা, বসুন্ধরা, ঢাকা।



