কোরআনের বাণী
যে তিন গুণ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা আনে

প্রতীকী ছবি
কোরআনুল কারিমের বার্তা
সুরা : লোকমান, আয়াত : ২২
بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ مَنۡ یُّسۡلِمۡ وَجۡهَهٗۤ اِلَی اللّٰهِ وَ هُوَ مُحۡسِنٌ فَقَدِ اسۡتَمۡسَكَ بِالۡعُرۡوَۃِ الۡوُثۡقٰی ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ عَاقِبَۃُ الۡاُمُوۡرِ ﴿۲۲﴾
২২. আর যে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমৰ্পণ করে, এমতাবস্থায় যে সে মুহসিন সে তো দৃঢ়ভাবে ধরলো এক মযবুত হাতল। আর যাবতীয় কাজের পরিণাম আল্লাহরই কাছে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
পবিত্র কোরআনের সুরা লোকমানের এই আয়াতটিতে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের ঈমান, আত্মসমর্পণ এবং সৎকর্ম; এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত গভীর ও সংক্ষিপ্ত ভাষায়।
আয়াতের প্রথমাংশে বলা হয়েছে— ‘যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে…’
এখানে ‘সমর্পণ’ বলতে বোঝানো হয়েছে, মানুষ তার
ইচ্ছা, চিন্তা, সিদ্ধান্ত; সবকিছু
আল্লাহর হুকুমের কাছে ছেড়ে দেবে। এটি কেবল মুখে ইসলামের দাবি নয়; বরং অন্তরের
আন্তরিকতা, বিশ্বাস
এবং কর্মে তার প্রতিফলন থাকা জরুরি। অর্থাৎ, আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা গ্রহণ করা
এবং যা হারাম করেছেন তা বর্জন করা—এই মনোভাবই প্রকৃত আত্মসমর্পণ।
এরপর বলা হয়েছে— ‘এমতাবস্থায় যে সে মুহসিন’। এখানে ‘মুহসিন’
শব্দটি ‘ইহসান’ থেকে এসেছে। হাদিসে জিবরাইল (আ.)-এর বিখ্যাত বর্ণনায় রাসূল (সা.)
ইহসানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন—
‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কর, যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তা না পারো, তবে মনে রাখো, তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫০) এর দ্বারা বুঝা যায়
যে, শুধু বাহ্যিক আমল নয়; বরং আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও উৎকর্ষের সঙ্গে আমল করাই ইহসান।
তারপর আল্লাহ বলেন— ‘সে তো দৃঢ়ভাবে ধরলো এক মজবুত হাতল’ এখানে ‘মজবুত হাতল’ বলতে এমন একটি অবলম্বন বোঝানো হয়েছে, যা কখনো ভেঙে যাবে না, ছিঁড়ে যাবে না। মুফাসসিরগণ বলেন, এটি ঈমান, তাওহিদ বা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর প্রতীক। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহসানের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করে, সে এমন এক নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে, যা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথে স্থির রাখে।
আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে— ‘আর যাবতীয় কাজের পরিণাম আল্লাহরই কাছে’। এটি মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণিকা। মানুষ যত পরিকল্পনা করুক, যত কাজই করুক; শেষ বিচার ও ফলাফল নির্ধারণ করবেন আল্লাহ তাআলা। তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো; নিজের দায়িত্ব পালন করা, সৎকর্ম করা এবং ফলাফলের ব্যাপারটি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।
সংক্ষেপে বলতে গেলে এই আয়াত
আমাদের তিনটি মূল শিক্ষা দেয়,
এক. আল্লাহর
প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ
দুই. ইখলাস ও ইহসানের সঙ্গে সৎকর্ম করা
তিন. ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা
যে ব্যক্তি এই তিনটি গুণ নিজের জীবনে ধারণ করতে পারে, সে প্রকৃত অর্থেই দৃঢ় ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথে অগ্রসর হয়।



