গণভোটে ‘না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নিলেন আসিফ মাহতাব

সংগৃহীত ছবি
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এইদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দিবেন সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে।
এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কী-না, সেই প্রশ্নে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দিবেন ভোটাররা। গত বেশ কয়েকদিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে গণভোট নিয়ে প্রচারণা শুরু করে সরকার।
যখন গণভোটের হ্যাঁ- নিয়ে বেশ আলোচনায় তার বিপরীত অবস্থানে ‘না’ ভোট দিবেন বলা জানিয়েছেন ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ মাহতাব উৎস। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন।
আসিফ মাহতাব বলেন, আপনারা অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন যে আমি জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিব নাকি ‘না’ ভোট দিব। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি অনলাইনে এতটা সক্রিয় না।
কিন্তু আপনারা যেহেতু প্রচুর সংখ্যক মানুষ আমাকে মেসেজ দিচ্ছেন, আমার উত্তর হচ্ছে— আমি ‘না’ ভোট দিব।
তিনি বলেন, ’আমি একটু সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব যে কেন আমি না ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের জুলাই সনদে ৮৪ নাম্বার ধারায় বলা আছে— যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়, তবে বাংলাদেশ ‘ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপে’ যোগ দিবে ’।
’ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপ জিনিসটা কী? জুলাই এ আমরা যে আন্দোলন করেছি তার সঙ্গে এর সম্পর্কটা কী? আমরা কি ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপ সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছি ‘?
‘ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপের’ কার্যক্রম প্রসঙ্গে আসিফ মাহতাব উৎস বলেন, ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপ হচ্ছে ‘এলজিবিটিকিউ রাইটস’ এর পক্ষে কাজ করবে ‘।
এলজিবিটিকিউ রাইটস বাস্তবায়ন করবে। জুলাই সনদ পাশ হলে তারা বলবে এটা তো পাশ হয়ে গেছে, আপনাকে এখন এলজিবিটিকিউ বাস্তবায়ন করতে হবে।
আসিফ মাহতাব বলেন, ”আমি তো ওপেন সোসাইটির জন্য সংগ্রাম করি নাই, আপনি করেন নাই। কিন্তু আপনাকে ভোট দেওয়ানো হবে এবং ভোট দেওয়ানোর পরে এগুলি (এলজিবিটিকিউ) বাস্তবায়ন করা হবে “।
গণভোটের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও এর মধ্যে কোন কোনটিতে বিএনপি, কোনটিতে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।
প্রথমে প্রস্তাবনা ছিল যে যে সব প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে না।
তবে, শেষ পর্যন্ত এই নিয়ে সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদে এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি না জয় পায় তাহলে জুলাই সনদই কার্যকর হবে না।



