আড়ংয়ে ৪০ টাকার ব্যাগে আপত্তি, কাঁখে কাপড় নিয়ে বের হলেন রুমিন ফারহানা

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর উত্তরায় আড়ং শোরুমে কেনাকাটা করতে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক আলোচিত নারী নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মায়ের জন্য কয়েকটি কাপড় কেনার পর শপিং ব্যাগ নিতে অতিরিক্ত ৪০ টাকা চাওয়া হলে এতে আপত্তি জানান তিনি। পরে ব্যাগ না নিয়েই কাঁখে কাপড় নিয়ে শোরুম ত্যাগ করেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উত্তরার জসিমউদ্দিন রোডের আড়ং শোরুমে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কাঁখে বেশকিছু কাপড় কিনে বের হচ্ছেন। এ নিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। মুহূর্তে স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়ে যায়।
সেখানে তিনি লিখেন, ‘আড়ং থেকে কেনাকাটা করতে গিয়ে এর আগে ও বহুবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু আজ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। একজন সংসদ সদস্যকে এতটুকু সম্মান দেখানো উচিত ছিল তাদের পক্ষ থেকে।’
তিনি আরও লিখেন, ‘আমরা গ্রাহকেরা টাকা দিয়ে পণ্য কিনব। কিন্তু সেই পণ্য বহন করার জন্য একটি সাধারণ শপিং ব্যাগও পাব না, এটা কেমন নিয়ম? পরিবেশ রক্ষার কথা বলে যদি শপিং ব্যাগ বন্ধ করা হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থাও তো থাকতে হবে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকের সুবিধার চেয়ে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াটাই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। একটা ব্র্যান্ড যখন মানুষের ভালোবাসা আর আস্থার উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সেই ব্র্যান্ডের দায়িত্বও থাকে গ্রাহকের প্রতি সম্মান দেখানোর। আমি মনে করি, গ্রাহকের ন্যূনতম সম্মান নিশ্চিত করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একটি গণমাধ্যমকে ফোনে বলেছেন, ‘ইফতারের পর ঢাকার উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডের আড়ং শো-রুমে যাই। মায়ের জন্য চারটি কাপড় (ম্যাক্সি) কিনি। কাউন্টারে যাওয়ার পর সাড়ে চার হাজার টাকার বিল ধরিয়ে কোনো ব্যাগ ছাড়াই কাপড় বুঝিয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষ বলেন কাপড় ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে। সেজন্য আমি প্রশ্ন তুলি, কেন কাপড়ের জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে? অদ্ভুত কথা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমি কাপড় নিয়ে চলে আসি।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, মায়ের জন্য কেবল আড়ং এ গিয়েছিলাম। কারণ মায়ের যে ম্যাক্সির মাপ সেটা আড়ংয়ের সঙ্গে যায়। অন্য দোকানে মিল পাওয়া যায় না। সে কারণে আড়ংয়ে যাওয়া। না হলে আমি জীবনেও আড়ং এ যেতাম না। আমি নিজের জন্য কোনোদিনও আড়ং থেকে কাপড় কিনি না।

