‘কেউ বিচার করে না’— রেলমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে কাঁদলেন এমপি মনিরুল

ফাইল ছবি
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রেলক্রসিংয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘণ্টা কয়েক পরে রেল ও সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করেন কুমিল্লা ৬ আসনে বিএনপির এ সংসদ সদস্য মনিরুল।
আজ রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুর থেকে রেলমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন মনিরুল। পরে ফোনালাপের ভিডিওটি ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করেন এই এমপি।
সেই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই নেটিজেনদের একাংশের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন এই সংসদ সদস্য। তারা বলছেন—জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার চিত্র ফুঁটে উঠেছে এমপির কথোপকথনে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্ত্রীকে (শেখ রবিউল) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুরোধ করেন। নিজের চিকিৎসা শেষে দ্রুত দেশে ফেরার কথাও জানান।
এর আগে শনিবার রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাসের প্রাণ যায় ১২ জনের।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।
পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয় জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে মনিরুল বলেন, ‘এটা নতুন ঘটনা নয়, গত ১০০ বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমত।’
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেল সচিবের কাছে সব কাগজপত্র আছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারিনি।’
এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সেদিনও বলেছেন….।’
জবাবে মনিরুল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার চিকিৎসক দেখানোর সূচি কাল (সোমবার) রাতে। চিকিৎসক দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করব। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড (এর ব্যবস্থা করেন)- আমি শান্তি পাব জীবনে।’
‘আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন।’
এসময় মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যাচ্ছি, রওনা দিয়েছি। আমি যা করার করব।’
এ সময় মনিরুল বলেন, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’

