‘সেঞ্চুরি করতে হলে আমাকে স্বার্থপর হতে হতো’

আইপিএলে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন সঞ্জু স্যামসন।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের নায়ক ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। তার ব্যাট থেকে এসেছে দুর্দান্ত সব ইনিংস, বেশির ভাগই সেঞ্চুরির কাছাকাছি ছিল। কিন্তু দলের স্বার্থ বিবেচনা করে তিনি নিজের সেঞ্চুরির কথা ভাবেননি। চলতি আইপিএলেও গতকাল সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন স্যামসন। চেন্নাই সুপার কিংসের এই তারকা খেললেন ৫২ বলে ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে স্যামসনের ইনিংসে ভর করে দিল্লি ক্যাপিটালসকে উড়িয়ে দিয়ে আসরে নিজেদের পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে চেন্নাই। ১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে একপর্যায়ে ৪৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চেন্নাই কিছুটা চাপে ছিল। উইকেট ধীর হয়ে যাওয়ায় রান তোলা কঠিন হয়ে উঠেছিল। তখন ক্রিজে এসে থিতু হতে সময় নেন স্যামসন। একপর্যায়ে তার রান ছিল ২২ বলে ২২।
উইকেটে সেট হয়েই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন স্যামসন। দিল্লির স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ১২তম ওভারেই ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে হার্শা ভোগলেকে বলেছেন, সেঞ্চুরি না হওয়ায় তার বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই, ‘সেঞ্চুরি সবসময়ই বিশেষ কিছু। কিন্তু সেটার জন্য আমাকে কিছুটা স্বার্থপর হতে হতো। আমি কার্তিককে বলিনি, ‘একটা সিঙ্গেল দাও, আমাকে সেঞ্চুরি করতে দাও।’ আমার কাছে মনে হয়েছে দলের হয়ে ম্যাচ জেতানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্যামসনের এই পরিণত মানসিকতা দেখে মুগ্ধ ভারতের দুই কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার ও বীরেন্দ্র শেবাগ। গাভাস্কার বলেছেন, ‘ধৈর্য সবসময় বড় পুরস্কার এনে দেয়। সে (স্যামসন) শুরুতে সময় নিয়েছে এবং পরে দ্রুত রান তুলেছে। কার্তিক যদি বড় শট খেলে ম্যাচ শেষ না করত, তবে হয়তো সেঞ্চুরিটা হতো। কিন্তু সে দলের জন্য খেলেছে।’
২০২৬ আইপিএলে এখন পর্যন্ত অসাধারণ ছন্দে আছেন সঞ্জু স্যামসন। আসরের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এরই মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ১০ ম্যাচে ৪০২ রান নিয়ে অরেঞ্জ ক্যাপের তালিকায় বর্তমানে পঞ্চম স্থানে থাকা স্যামসনের প্রশংসা করেছেন বীরেন্দ্র শেবাগও, ‘গত কয়েক বছরে খেলার ধরন ও পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতায় অনেক উন্নতি করেছে স্যামসন। সে এখন কেবল নিজের জোনের বলগুলোতেই আক্রমণ করছে এবং অহেতুক ঝুঁকি নিচ্ছে না।’





