যুদ্ধে নেমে গুলির ভয় করেন না রানা

৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন রানা। ছবি: আগামীর সময়
২০১১ বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার কান্নার ছবি অনেকেরই মনে আছে। ইনজুরি এড়াতে টেস্ট ছেড়েই দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। এখনো সাদা পোশাকে খেলা তার জন্য ভয়ের। নাহিদ রানা এই ভয় করেন না, যুদ্ধে নেমে গেছেন এখন আর গুলির ভয় নেই তার।
ইনজুরির ভয় থাকে বলে পেসাররা সবসময় একটু সাবধানি থাকেন। বোলিংয়ে ফুল এফোর্ট দিতে একটু ভাবেন কখনো কখনো। রানার সামনেই যখন দুজন উজ্জ্বল উদাহরণ, তার কি ইনজুরির ভয় কাজ করে? এই যে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতি ছোঁয়া বল করে যান প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, তা কীভাবে সম্ভব?
রানার উত্তরটা ছিল এমন, ‘ইনজুরি কখনো বলে আসে না। আপনি যদি একটা যুদ্ধে নামেন, তো কখনো গুলি খাওয়ার ভয় করবেন না। ক্রিকেটে ইনজুরি আসবে, এটা স্বাভাবিক। ফিজিও আছেন, বিসিবিতেও যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করছেন তারা বিষয়টি দেখছেন এবং কোন সিরিজে কয়টা ম্যাচ খেলব, তারা আগে থেকে নিশ্চিত করে রাখেন। অবশ্যই তারা আমাদের পেসারদের জন্য প্রক্রিয়া ঠিক রাখেন।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদের প্রথম বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৪.৬ কিমি। শেষ বল করেছেন ঘণ্টায় ১৪৫.৯ গতির। পুরো ১০ ওভার বল করেছেন, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ সামলে প্রথম বলের চেয়ে শেষেরটি জোরে করা যেকোনো পেসারের অবিশ্বাস্য ফিটনেসের প্রমাণ দেয়।
রানা সেই রকম একজন। নিজের এই অটল ফিটনেসের রহস্য জানিয়েছেন এভাবে, ‘অনুশীলনের বাইরে বা অনুশীলনে ফিটনেস ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করি। যেভাবে ফিটনেস বাড়ানো যায় বা হাই রাখা যায়, সে প্রক্রিয়া মেনে চলি। তাই ম্যাচের সময় আমি কখনো মাঠে ক্লান্ত অনুভব করি না, ইনজুরির ভয়ও না।’
যুদ্ধে নেমে গুলির ভয় না করা মানসিকতা রানার পুরনো। গত বিপিএলে ঠিক এ উক্তিটিই শুনিয়েছিলেন এ পেসার। তখন রংপুর রাইডার্সের হয়ে টানা ম্যাচ খেলছিলেন। এই বয়সে টানা খেলার ক্লান্তি শরীরে ইনজুরি ডেকে আনে। হার না মানা রানা ঘোষণা করে দেন— যুদ্ধে নেমেছেন, গুলির ভয় করেন না। বিপিএলের পর সোমবার আবারও ক্রিকেট মাঠে ‘যুদ্ধে’ নেমে ইনজুরি নামক ‘গুলির’ ভয় না করার কথা মনে করালেন।



