বিপিএল
ফিক্সিং ও দুর্নীতির দায়ে নিষিদ্ধ ৫ জন

ফিক্সিং ও দুর্নীতির তদন্ত শেষে এবার শাস্তির পথে হাঁটল বিসিবি। ছবি: সংগৃহীত
শেষ হলো অপেক্ষার পালা। বিপিএলে দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ে জড়িতদের নাম জানাল বিসিবি। সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে তাদের। সমালোচিত ২০২৫ বিপিএল আসরটি নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত শেষে এবার শাস্তির পথে হাঁটল বিসিবি।
২০২৫ সালের বিপিএলে একজন ক্রিকেটারসহ অন্তত ৪ জনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি। এ ছাড়া অন্য আসরে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ধারা ভাঙার কারণে অভিযুক্ত পাঁচ জন হচ্ছেন- চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান।
দুর্নীতি দমন তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার বিষয়গুলো উঠে আসে। তদন্তে কথিত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব ও নীতিমালার ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা, সংশ্লিষ্ট গোপন যোগাযোগ মুছে ফেলা এবং মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে (ড্যাকো) সহায়তা না করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ ছাড়া বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা) এর অধীনে একটি 'এক্সক্লুশন অর্ডার' বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি।
কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
লাবলুর রহমান (চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার)
• ধারা ২.৪.৬ – এই ধারা অনুযায়ী সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে ড্যাকোকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকৃতি জানানো, যার মধ্যে ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতার বিষয়ও রয়েছে।
ধারা ২.৪.৭ – সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো, যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাও অন্তর্ভুক্ত।
তৌহিদুল হক তৌহিদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী)
• ধারা ২.৪.৬ – ড্যাকো পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা না করা বা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থ হওয়া।
• ধারা ২.৪.৭ – তদন্তে বাধা দেওয়া, তথ্য গোপন করা বা তথ্য ধ্বংস করা।
অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)
• ধারা ২.২.১ – ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয়ের ওপর বাজি ধরা, গ্রহণ করা বা তাতে অংশ নেওয়া।
রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)
• ধারা ২.২.১ – ক্রিকেট ম্যাচ সম্পর্কিত বেটিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
অভিযুক্তদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে হবে।



