তামিম ইকবাল
নিয়ম অমান্য করেই বিপিএল খেলেছে সিলেট-নোয়াখালী

সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল। ছবি: আগামীর সময়
বিপিএলের দল চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে বিসিবি। সেই বিজ্ঞপ্তি দেখে দল নিতে আগ্রহ দেখায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সেখানে আর্থিক বিষয়সহ অন্যান্য নিয়মকানুন মানার কথা উল্লেখও থাকে। বিসিবি ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মতিতে এক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে হয় দল বণ্টন। সবশেষ বিপিএলে এসবের কোনোটাই হয়নি সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম না মেনেই বিপিএলে খেলেছে দুই দল।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল নিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। একইসঙ্গে প্রকাশ করলেন বিপিএল নিয়ে গত ১৪ বছরের বিশৃঙ্খলার কারণ। সঠিক প্রক্রিয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাই না হওয়ায় বিসিবি প্রতিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো পরিচালক বা ব্যক্তির ইচ্ছায় কোনো প্রতিষ্ঠান পেয়ে যায় বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা। আর তারাই যদি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ইস্যু তৈরি করে তখন ক্ষতিতে পড়ে বিসিবি।
সবশেষ বিপিএলে চুক্তি ছাড়াই সিলেট ও নোয়াখালী দল বিপিএল খেলেছে বলে জানালেন তামিম, ‘ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে বিসিবি ঠিক করেছিল ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি না দিলে দল দিবে না। কিন্তু একটি দল বাদে বাকিরা ব্যাংক গ্যারান্টি দেয় নাই। ২ কোটি টাকার চেক দিয়ে বিপিএল খেলেছে। এখানে বিষয় হলো চেক কিন্তু ব্যাংক গ্যারান্টি না। তাহলে বিসিবির দেওয়া নিয়ম মানা হয়নি। সিলেট ও নোয়াখালী এই নিয়ম না মেনেই বিপিএল খেলেছে।’
এই অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতাও চাইলেন তামিম,‘দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজি একটা মৌসুম খেলে ফেলেছে অথচ চুক্তিই হয় নাই। এটাকে কি আপনি শুধু ভুল বলবেন? অবশ্যই, জবাবদিহিতা করতে হবে। তাহলে উনাকে (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) জবাবদিহিতা করতে হবে, কী কারণে ১০ কোটি টাকার জায়গায় ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন। একটা দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে না করেছে তাও কেন দিয়েছে। এসবের উত্তর দিতে হবে।’
তামিম আরও যোগ করেন,‘আমি কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাই না। আপনি ফ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করছি। কেউ যদি ভুল করে থাকে তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। সে যেই হোক। আমি যদি এখন কোনো ভুল করে যাই তাহলে আমাকেও জবাবদিহিতা করতে হবে।’
আরও একটি দলের নামও যোগ হতে পারত, চট্টগ্রাম রয়্যালস। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোনো আর্থিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এই দলের মালিকানা নিজেরাই নিয়ে নেয় বিসিবি। পরে ওই দলের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে গত বিপিএলে ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা ক্ষতিতে পড়েছে বোর্ড।
তামিম তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাইয়ে আরও সতর্ক হওয়ার পক্ষে, 'বুঝলাম আপনি একটা টুর্নামেন্ট করছেন। আগে এই টুর্নামেন্ট এক সময় লাভ করত। আজ সেই টুর্নামেন্টে ১০ থেকে ১৪, ১৫, ১৬ যা-ই হোক, সঠিক সংখ্যাটা আমি বলতে পারছি না। তবে এরকম কিছু একটা হবে ১৪-১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। এভাবে করে আর কয় দিন। আমাদের আরও কিছু করার আছে। আমি জানি না সামনে ইনশা আল্লাহ যদি দায়িত্বে আসি, আমার যেটা ইচ্ছা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। যদি যথাযথ ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, তাহলে মনে হয় না বিপিএলটা করা উচিত আমাদের।’



