আইসিসি ছাড়ছেন ওয়াসিম খান

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ চার বছর আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার অব ক্রিকেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়াসিম খান। গতকাল মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। আগামী ৩০ জুন তিনি শেষবারের মতো আইসিসি কার্যালয়ে নিজের ডেস্কে বসবেন।
২০২২ সালের মে মাসে জিওফ অ্যালারডাইসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ওয়াসিম খান। এর আগে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী হিসেবে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে আইসিসিতে তার এই মেয়াদকাল খুব একটা মসৃণ ছিল না। গত দুই বছরে আইসিসির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিদায়ের মিছিলে নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হলেন ওয়াসিম।
এর আগে প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালারডাইস, ইভেন্ট প্রধান ক্রিস টেটলি এবং আকসু প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আইসিসি ছেড়েছেন। ওয়াসিম খানের দায়িত্ব পালনকালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপট সামলানো। তার আমলেই আইসিসি প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য আলাদা ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম বা এফটিপি প্রকাশ করে। এছাড়া ২০২৩-২৭ চক্রের এফটিপিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধিতেও তার বিশেষ ভূমিকা ছিল।
ওয়াসিম খান কেবল একজন সফল প্রশাসকই নন, তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা প্রথম ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত মুসলিম ক্রিকেটার। নব্বইয়ের দশকে ওয়ারউইকশায়ার, সাসেক্স ও ডার্বিশায়ারের হয়ে খেলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ১৯৯৫ সালে ওয়ারউইকশায়ারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়েও বড় অবদান ছিল তার। ক্রিকেট ছাড়ার পর লিস্টারশায়ার কাউন্টির প্রধান নির্বাহী হিসেবেও তার সুনাম ছিল।
আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুলাই মাস থেকে ওয়াসিম খান নতুন কোনো সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তবে সেই গন্তব্যটি কোথায়, তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আইসিসিতে তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রশাসনিক এই রদবদল আইসিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



