ভারতের নতুন ক্রীড়ানীতি
পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, খেলা হবে বৈশ্বিক আসরে

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলার বিষয়ে অনড় ভারত।
কাশ্মীর হামলার ঘটনায় ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল ক্রিকেটে। সেই ঘটনার এক বছর পর পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্কের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণা করেছে ভারত। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বা ম্যাচ খেলবে না। তবে ভারতের মাটিতে আয়োজিত যেকোনো বহুদলীয় টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গত ৫ মে এক সরকারি স্মারকে এই নীতিমালা স্পষ্ট করেছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বড় ভূমিকা রাখার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্মারকলিপিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ‘যতদিন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ক্রীড়া সম্পর্কের প্রশ্ন, ভারত পাকিস্তানে কোনো ম্যাচ খেলতে যাবে না এবং পাকিস্তানি দলকেও ভারতে এসে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।’
তবে আইসিসি এবং এসিসির ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারত নমনীয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নিয়ম এবং ভারতীয় অ্যাথলেটদের স্বার্থ বিবেচনা করে বহুপাক্ষিক আসরে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবে ভারত। অর্থাৎ, ভারতে আয়োজিত বিশ্বকাপ বা এশিয়ান গেমসের মতো আসরে পাকিস্তানিরা অংশ নিতে পারবে, আবার দেশের বাইরেও এই ধরনের আসরে দুই দেশ মুখোমুখি হতে পারবে।
ভারত আগামীতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস, ২০৩৬ অলিম্পিক এবং ২০৩৮ এশিয়ান গেমস আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও অন্যান্য সংস্থার শর্ত মানতে অ্যাথলেট, কোচ এবং কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টি-এন্ট্রি ভিসার সুবিধাও রাখা হয়েছে নতুন নীতিতে।
২০২৫ সালে কাশ্মীরের পেহেলগাঁও হামলার পর ভারতের জনমনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই সময় এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ খেলা নিয়ে ভারত সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছিল। কিন্তু ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ভারত নিজের অবস্থান সংহত করতে এই নীতি গ্রহণ করেছে।
আগামী জুলাই-আগস্টে কমনওয়েলথ গেমস এবং সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসে ভারত ও পাকিস্তানের অ্যাথলেটরা মুখোমুখি হবেন। এছাড়া হকিতেও আগামী কয়েক মাসে অন্তত তিনবার দুই দেশের লড়াই হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের এই নতুন অবস্থানের ফলে পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।





