আগামীর সময়

বুলবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই হচ্ছে তদন্ত!

বুলবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই হচ্ছে তদন্ত!

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: বিসিবি

প্রায় দেড় মাস পর রবিবার (২৯ মার্চ) ভোরে বাংলাদেশে ফিরছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এই সময়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ বুলবুল সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনের নির্বাচিত সভাপতি। আর এই নির্বাচনের শুদ্ধতা তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটি এই সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাকে ডাকার কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি কমিটি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন নিয়ে ওঠা নানা অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

১১ মার্চ গঠিত এই কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।

কমিটি গঠনের পর ১০ কর্মদিবস অতিবাহিত হলেও নির্বাচিত সভাপতি বুলবুলের সঙ্গে কথা হয়নি কমিটির কারও।

এতদিন সেই সুযোগ ছিল না বিসিবি সভাপতি অস্ট্রেলিয়ায় থাকায়। তিনি দেশে ফিরছেন। রবিবার থেকে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুলবুলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধান আসাদুজ্জামানের কথায় সেই ইঙ্গিতও মিলছে না।

বিসিবি প্রধানের সঙ্গে কবে কথা বলবেন, এমন প্রশ্নে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেছেন, ‘না, তার (বুলবুল) সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আলাদা কোনো দিন-তারিখ ঠিক করা হয়নি। আমরা তার জন্য দরজা খোলা রাখবো। উনার যদি মনে হয়, আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার তাহলে আসবেন, কথা বলবেন। নয়তো আমরা অপেক্ষা করবো না। নির্ধারিত সময়ের পর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে দিবো। আমরা ১৫ কার্যদিবসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

আসাদুজ্জামানের কথায় স্পষ্ট, তারা যেচে গিয়ে বুলবুলের সঙ্গে কথা বলবেন না। বুলবুলকে স্বপ্রণোদিত হয়ে যেতে হবে তদন্ত কমিটির কাছে!

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তদন্তের বিষয়বস্তু পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন এভাবে, ‘আমরা এই তদন্ত কিন্তু কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে করছি না। এটা শুধু নির্বাচন কী প্রক্রিয়ায় হয়েছিল তা জানা, এর বাইরে কিছু নয়। এভাবেই এখন পর্যন্ত আমরা এগোচ্ছি।’

তবে এই তদন্ত কমিটি গঠনের পরপরই বিসিবি এক বিবৃতি দিয়ে এই প্রক্রিয়াকে সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এমন কিছু হলে বিসিবি’র ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলেও লেখা হয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে।

বুলবুলের পাঠানো ওই বিবৃতির পর বিসিবি প্রধানকে আর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। একরকম নিশ্চুপ থেকেই রবিবার ভোরে দেশে ফিরবেন তিনি।

    শেয়ার করুন: