আশরাফুল
মুশফিক-মুমিনুলরা টেস্ট মেজাজেই আছেন

টেস্ট সিরিজ নিয়ে আশাবাদী মোহাম্মদ আশরাফুল। ছবি: সংগৃহীত
সবশেষ নভেম্বরে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ মাস পর পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও সাদা পোশাকে নামার সুযোগ এলো। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ওয়ানডে ফরম্যাট খেলা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচে।
লম্বা সময় বিরতির পর টেস্টে মেজাজে ফেরা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এটা মেনে নিয়েছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও। স্বস্তি এই, টেস্ট দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই শুধু এ ফরম্যাটে খেলেন। সম্প্রতি বিসিএল চার দিনের ম্যাচও খেলেছেন। তাই আশরাফুলের বিশ্বাস মুশফিক-মুমিনুলরা টেস্ট মেজাজেই আছেন, পাকিস্তান সিরিজে ভালো করা খুব কঠিন হবে না।
বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের বড় রান না করার ঘাটতি সবশেষ টেস্ট সিরিজে দেখা যায়নি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রানের ধারাবাহিকতা পাঁচ মাস পরের সিরিজেও দেখার আশা ব্যাটিং কোচ আশরাফুলের, ‘লম্বা সময় পর টেস্ট খেলা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। বড় দলগুলো কাছাকাছি সময়ে টেস্ট খেলে। আমরা সেই সুযোগ কম পাই। তবে আমাদের টেস্ট ব্যাটার যারা আছেন তাদের মধ্যে মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিম অনেক অভিজ্ঞ। মুশফিক তো ১০০ পূর্ণ করল, মুমিনুল প্রায় ৮০ টেস্ট খেলেছে। শেষ সিরিজেও ওরা অনেক রান করেছে। কিছুদিন আগে বিসিএল খেলল, সোহেল ইসলামের অধীনে লাল বলে ক্যাম্প করেছে। ওরা টেস্টের মেজাজেই আছে।’
মুশফিক-মুমিনুলরা দলে থাকায় আশরাফুলের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে মিডলঅর্ডার নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয় না তার, ‘এটা বিরাট উপকার। যত বেশি ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দলে থাকবে তাদের জন্য রান করা সহজ, তাদের নিয়ে কাজ করাও সহজ। তাছাড়া ওরা অনেক দিন পরপর খেলে বলে রান করার ক্ষুধাটা বেশি থাকে।’
তবুও ব্যাটিং অর্ডারে ব্যর্থতা থাকে। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজরা টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ফরম্যাটেও খেলেন। সেখান থেকে টেস্টে মনোনিবেশ করা— ব্যাটার হিসেবে তাদের জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং মনে করেন আশরাফুল, ‘টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্টের মানসিকতা রাতারাতি আনা খুব চ্যালেঞ্জিং। আমি সবসময় বলি এক মাসে তিনটা ফরম্যাট খেলা সহজ না। টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্টের ব্যাটিং মানসিকতা পরিবর্তন করতে সময় লাগে। লিটন-মিরাজ ওরা ট্রেনিংয়ে ছিল। ওয়ানডে তো মিনি টেস্ট ম্যাচের মতো। আশা করি ওরা মানিয়ে উঠবে।’
আশরাফুল ব্যাটিং কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ব্যাটারদের একসঙ্গে ব্যর্থতার অভ্যাস অনেকটাই থেমেছে। ফরম্যাট যেমনই হোক প্রতি ম্যাচেই কোনো না কোনো ব্যাটার ক্রিজে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন রান করতে। জুটি হিসেবে সহযোগীও পাচ্ছেন।
এই সফলতার ভাগীদার আশরাফুলও। কোচ হিসেবে তার এ অর্জন ভালো লাগে। তবুও সাবেক অধিনায়ক কৃতিত্ব দিচ্ছেন ব্যাটারদের। সেই কৃতিত্ব ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্মৃতি নিয়ে সামনের সিরিজে পা রাখতে চান আশরাফুল।



