তামিমের ব্যাটে ‘টেস্টের’ সৌন্দর্য

ছবি: আগামীর সময়
পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথমদিন নেটে বেশ মনোযোগী দেখা গেল তানজিদ হাসান তামিমকে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি এই তরুণের টেস্ট অভিষেক হচ্ছে? উত্তরটা ৮ তারিখ সকালের আগে পাওয়া যাচ্ছে না। অপেক্ষা আর দিন তিনেকের। তবে তামিম যে বাংলাদেশকে আধুনিক টেস্ট ব্যাটিংয়ের যুগে নিয়ে যাবেন, তা নিশ্চিত করলেন সাবেক দুই ক্রিকেটার হান্নান সরকার ও ইমরুল কায়েস।
‘দ্রুত রান করতে পারেন’ তামিমের এই গুণ সম্পর্কে দুজনই একমত। হান্নান সরকারের বিশ্বাস, ‘টেস্টে এক ধরনের ক্রিকেটার থাকে যারা আক্রমণাত্মক খেলে, যেমন - ডেভিড ওয়ার্নার। বলছিনা তামিম ওর মতো ব্যাটিং করে কিন্তু সেই সামর্থ্য আছে। সাদমান এক ধরনের ব্যাটিং করে, তামিম তার চেয়ে ভিন্ন। এ ধরনের ক্রিকেটারকে সিস্টেমের মধ্যে রেখে তৈরি করলে দলের জন্য ভালো।’
ইমরুলের চোখে টেস্ট ক্রিকেটাই বদলে গেছে। তামিমকে দলে রাখা তাই যথার্থ মনে করেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট আগের মতো নেই যে ২০০ বলে ১০০ করছেন। এখন ১২০-৩০ বল খেলে ১০০ রান করছে ব্যাটাররা। প্রতি দলেই এরকম ব্যাটার থাকে। কালচারটা পরিবর্তন করা উচিত। আমরা তো ২০ বছর আগের অবস্থায় পড়ে থাকতে পারি না। ভিন্ন ভাবে চিন্তা করা উচিত, নির্বাচকরা তা দেখিয়েছে। এমন ব্যাটারদের শুরুতে খেলিয়ে হয়তো ব্যর্থতা আসবে কিন্তু এরা তৈরি হয়ে গেলে টেস্টেও আধুনিক ক্রিকেট খেলতে পারবে বাংলাদেশ।’
তামিমের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে ২০২৩ সালে। এক বছর পর ডাক পেয়েছেন টি-টোয়েন্টির একাদশেও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তাপ বুঝেছেন এতদিনে। এবার আসল ক্রিকেটে নিজেকে চেনানোর পালা। তামিম কি এর জন্য প্রস্তুত? এই ক্ষেত্রে তামিমকে নিয়ে হান্নান ও ইমরুলের চিন্তা দুই রকম।
তামিমের মতোই বাঁহাতি ওপেনার ইমরুলের চোখে এই তরুণের টেস্টের জন্য প্রস্তুতের কারণ এই রকম, ‘ও (তামিম) যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে (ওয়ানডেতে) সেঞ্চুরি করলো তখনই আমি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছি - সে তিন ফরম্যাটে খেলার জন্য প্রস্তুত। ব্যাটিং অর্ডারে তাকে শুরুতে বা ছয় নম্বরে যে কোনো পজিশনেই নামানো হোক সে দ্রুত রান তুলতে পারবে।’
যুব ক্রিকেট থেকে শুরু করে আবাহনী, তামিমের দীর্ঘদিনের কোচ হান্নান সরকার। তার মতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও টেস্টে নতুন করে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে তামিমকে, ‘সবচেয়ে ভালো দিক তামিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু সেটা সাদা বলে, লাল বলের ক্রিকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন। হয়তো প্রথমশ্রেণিতে খেলায় সে জানে কীভাবে বড় রান করতে হয়, ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে, তবুও টেস্ট খুব চ্যালেঞ্জিং।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডেতে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি ছিল তামিমের। পরের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আছে আরও একটি ফিফটি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজের শেষ ইনিংসটি খেলতে নেমেও করেছেন ৩২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস। সবগুলো ইনিংসেই তার স্ট্রাইক রেট ১২০ এর ওপরে। কোচ হান্নান ও সাবেক ব্যাটার ইমরুল চাইছেন একাদশে থাকলে তামিমকে এমন ব্যাটিং করার স্বাধীনতা দেওয়া হোক।
তামিম শুধু ঝড়ো ইনিংস-ই নয়, বড় ইনিংসও খেলতে পারেন। তাই প্রথম শ্রেণিতে তার ‘কনভারশন রেট দারুণ। রাজশাহী বিভাগের হয়ে জাতীয় লিগ খেলা এই ব্যাটার ২৫ ম্যাচে ৪৫ ইনিংসে রান করেছেন ১৭৯২। ৪৫ ইনিংসে ১১ বারের মধ্যে পাঁচবার পঞ্চাশকে টেনেছেন সেঞ্চুরিতে। হাফসেঞ্চুরি ছয়টি। গড় ৪০.৭২ ও স্ট্রাইকরেট ৭৭.৬৭।
ওই শেষ অংশটাই নতুন আশা দেখাচ্ছে। দলের সেরা টেস্ট ব্যাটার মুশফিকের স্ট্রাইকরেট ৪৮.৫২, লিটন দাসের ৫৯.৬৫। ৭৭ এর বেশি স্ট্রাইকরেট নিয়ে তামিম বাংলাদেশকে আধুনিক টেস্ট ব্যাটিংয়ের পথ দেখাবেন ইনিংসের শুরুতে নেমে।



