কানাডা ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ের কালো মেঘ, তদন্তে আইসিসি

এই ম্যাচ ঘিরে সন্দেহের তীর কানাডা অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার দিকেই।
ক্রিকেট খেলুড়ে পুঁচকে দল কানাডা মাঠের ক্রিকেট ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এলো ফিক্সিং ইস্যুতে। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার একটি ম্যাচে দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে পেয়েছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকু)। মূলত একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র প্রকাশের পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শুরু হয়েছে তদন্ত।
ঘটনাটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়েে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের 'ডি' গ্রুপের একটি ম্যাচের। সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের রান তাড়া করার সময় পঞ্চম ওভারে বল হাতে তুলে নেন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া। অফস্পিনার হিসেবে পরিচিত এই ২২ বছর বয়সী অধিনায়ক একটি নো-বল এবং লেগ সাইডে ওয়াইড দিয়ে শুরু করেন। ওই এক ওভারেই তিনি ১৫ রান খরচ করেন। তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়, মাঠের ওই নির্দিষ্ট সময়ের ঘটনাপ্রবাহ অস্বাভাবিক এবং এটি ফিক্সিং হতে পারে।
সিবিসির অনুসন্ধানী প্রোগ্রাম ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এ প্রচারিত ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ নামক একটি ৪৩ মিনিটের তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, বাজওয়ার সেই ওভারটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ২১ দিন আগে হুট করে তাকে অধিনায়ক করার পেছনেও অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। তবে তদন্তের জাল শুধু বাজওয়াতে সীমাবদ্ধ নেই। ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডে সাবেক কোচ খুররাম চৌহান দাবি করেছেন, বোর্ড থেকে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে খেলানোর জন্য তাকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো।
একই সুর আরেক সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকের কণ্ঠেও। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে বোর্ড তাকে বিশেষ খেলোয়াড় নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল। রাজী না হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পুবুদু এখন বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালাচ্ছেন। কানাডা ক্রিকেটের এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা অবশ্য নতুন কিছু নয়। সাবেক সিইও সালমান খানের বিরুদ্ধে ক্যালগারি পুলিশ চুরির মামলা করেছে। অভিযোগ আছে, তিনি তার অপরাধের ইতিহাস গোপন করে পদে বসেছিলেন।
তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, ২০২৪ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি পেতে ক্রিকেটারদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারা প্রায় চুক্তিহীন অবস্থায় বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক এক খেলোয়াড় দাবি করেছেন, বোর্ড ও ক্রিকেটের ভেতরে সংগঠিত অপরাধী চক্র বা মাফিয়ার প্রভাব রয়েছে। আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ জানিয়েছেন, তারা তথ্যচিত্রের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। তবে ফিক্সিংয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রমাণ হাতে না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় আইসিসি।
পর্দার আড়ালে এমন ঘটনা কানাডার ক্রিকেটের স্বচ্ছতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে ক্রিকেট কানাডা।



