বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ

সব ঠিক থাকলে এ বছরই হয়তো এমন দৃশ্য আবার দেখা যাবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। গত বছরের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল ভারত। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশকে ছাড়াই হয়ে যায় বিশ্বকাপ। এখন এই শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের। এই সফরে দুই দলের তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলার কথা। এটা সবাই জেনে গেছেন যে, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদার এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে এই চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ডিরেক্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করি। তারই অংশ হিসেবে আমরা বিসিসিআইকে ই-মেইল করেছি। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতীয় পুরুষ দলের বাংলাদেশ সফর এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ নারী দলের ভারতে যাওয়ার বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও কী কী সম্ভাবনা আছে, তা অন্বেষণের অনুরোধও জানানো হয়েছে।’
চলতি আইপিএলের আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু আসর শুরুর আগে হঠাৎ করেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও এর পেছনে যে রাজনৈতিক ইস্যু জড়িত, সেটা সামনে চলে আসে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ৪ এপ্রিল দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ উল্লেখ করেছে যে, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছেন।’
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ওয়ানডে। পরের দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ৩ এবং ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ৯, ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। শেষ ওয়ানডে এবং প্রথম টি-টোয়েন্টির ভেন্যু চট্টগ্রাম।

