দাবি বুলবুলের
বিশ্বকাপ খেলার জন্য যুদ্ধ করেছি

সদ্য অপসারিত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তথা সদ্য অপসারিত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আমলে টাইগাররা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। এটাই এখন বাস্তব সত্য। তবে বুলবুল দাবি করেছেন যে, তিনি নাকি বিশ্বকাপ খেলার জন্য আইসিসির সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে পাশ কাটিয়ে দায় চাপিয়েছেন ক্রিকেটারদের ওপর।
দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেছেন, ‘এখন যদি বাংলাদেশে একটা ভূমিকম্প হয়ে যায়, সেটা কি তারেক রহমানের ব্যর্থতা হবে? টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত, তাও নিরাপত্তার কারণে। ক্রিকেটারদের জানানো হয়েছে। যারা বলছে, তারা তাদের নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুক, তারা সব জানে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে কেউ বলেনি যে খেলতে যাবে। শুধু আফসোস করছিল। একটা লোকও বলেনি যেতে চাই।’
বিসিবির এই বিতর্কিত সভাপতি আরও দাবি করেন, ‘শুধু লড়াই করিনি, রীতিমতো যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এটা তো আমি মানুষকে দেখিয়ে করব না। আসিফ নজরুল (তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা) সাহেবদের সঙ্গে যেদিন বৈঠক হয়, ক্রিকেট বোর্ডের ঢাকায় থাকা ১৪–১৫ জন পরিচালক কিন্তু সিদ্ধান্ত দিয়ে এসেছিলেন। আমাদের যুদ্ধ কিন্তু সহজ ছিল—কেন মোস্তাফিজকে আইপিএল খেলতে দেওয়া হবে না, এটা ছিল নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ।’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ভারতে খেলতে ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ অনুভব করছিল বিসিবি এবং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যে কারণে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি জানিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু আইসিসি এই দাবি মানেনি। বুলবুল দাবি করেন, আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড নাকি গ্রুপ বদলে রাজি হয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট অপারেশন্সের কর্মকর্তারা ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নাকি কিছুই বলেননি।
বুলবুলের ভাষায়, ‘আমরা বোর্ডটা স্বাধীনভাবে চালাতাম। ক্রিকেটারদের সব দায়িত্ব ক্রিকেট অপারেশনসের কাছে ছিল। যত দূর জানি, তারা ক্রিকেটারদের জানানোর কাজটা করেছে। এখন এসব কথা বললে তো হবে না। তারা তো উপদেষ্টার সামনে জোর গলায় বলেনি যেতে চাই, আপনারা ব্যবস্থা করেন। ক্রিকেটার, দেশের সাংবাদিক ও যারা খেলা দেখতে যাবে, সবার নিরাপত্তার কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আমরা কখনও বলিনি বিশ্বকাপ খেলব না। বলেছি খেলব, তবে ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় হতে হবে।’



