পদ টেকাতে বুলবুলের দৌড়ঝাঁপ

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত
গত বছর ৩০ মে, ফারুক আহমেদকে অদ্ভুতভাবে একদিনের নোটিশে সরিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ওই সময় ‘টি-টোয়েন্টি’ ক্রিকেট খেলার শখের কথা বলেছিলেন তিনি। তিন মাস থেকে নির্বাচন দিয়ে তার সভাপতি পদ ছেড়ে যাওয়ার কথা। ছেড়ে যাবেন কী, বিতর্কিত নির্বাচন দিয়ে বুলবুল নিজেই ওই চেয়ার আঁকড়ে বসে গেছেন দীর্ঘদিনের জন্য।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচন হয়, আর সে থেকেই বুলবুলের দীর্ঘ পথচলার শুরু। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হওয়া ওই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ক্রিকেট মহলে। তা আমলে নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় করছে ওই নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত। তদন্ত কমিটিও বুলবুলকে ডেকেছে বলে শোনা যাচ্ছে, তবে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন নিজের সভাপতির পদটি অক্ষত রাখতে।
গুঞ্জন আছে, সরকারের ক্ষমতাবানদের দুয়ারে ধর্না দিচ্ছেন বুলবুল বোর্ডে টিকে থাকার জন্য। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শরণ নিয়েছেন তিনি। যেন তদন্ত শেষে তার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে না যায়।
এজন্যই কিনা হঠাৎ করে নিজের স্বভাব বদলে ফেলে মিডিয়ার বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন! আগে কখনো তার মধ্যে এমন মিডিয়াপ্রীতি দেখা যায়নি। উল্টো সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ দেখলেই ক্ষুব্ধ হতেন সাংবাদিকদের ওপর, এমনকি ব্লক করে রেখেছিলেন সাংবাদিকদের ফোন নম্বরও। এর পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন এভাবে, ‘কার সঙ্গে কথা বলবো, না বলবো সেটা আমার সিদ্ধান্ত। এই অধিকার কি আমার থাকতে পারে না।’
এমন অধিকারের চর্চা করা বিসিবি সভাপতি এখন সময় খারাপ দেখে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে নিজের তরফে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে কথা বলতে সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তার এমন কর্মকাণ্ডকে অদ্ভুত হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘উনি (বুলবুল) নানাভাবে চেষ্টা করছেন (প্রেসিডেন্ট হিসেবে টিকে থাকার)। এসব নিয়ে এখন কিছু বলার নেই, তদন্ত রিপোর্টেই সব পরিষ্কার হবে, আশা করি। তবে আমার মনে হচ্ছে সময় কঠিন, তার টিকে থাকা সম্ভব নয়।’
এছাড়া মোহামেডান ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যন মো: মাসুদুজ্জামান বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুলবুলকে মানতেই চান না। এই ক্রিকেট সংগঠক বলেছেন, ‘আমরা অনেক ক্লাব সংগঠকরা তাকে বিসিবি প্রেসিডেন্ট হিসেবেই মানি না। বিগত দিনে উনি কীভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে সেটা আমরা সবাই জানি।’
এরপর মাসুদ যোগ করেন, ‘এখন পদ ধরে রাখার জন্য বুলবুল যা পারছেন তাই করছেন এবং মুখে বলছেনও। একপ্রকার সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলারও চেষ্টা করছেন।’
তদন্তের কথা শুনে বুলবুল আইসিসির ভয় দেখিয়েছিলেন সরকারকে। তিনি বলেছিলেন, ‘বিসিবির ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ হলে আইসিসি নিষিদ্ধ করতে পারে বাংলাদেশকে।’ এখন অবশ্য বুলবুলের সুর অনেকখানি নরম। সভাপতি পদ বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপ করছেন এদিক-ওদিক, বশীকরণেরও চেষ্টা চলছে সংবাদ মাধ্যমকে। এরপরও কি শেষ রক্ষা হবে?
বিসিবি প্রেসিডেন্টের ক্রিকেটের সব বিষয়ে যেমন নাক গলানো ঠিক নয়, আবার তার পদে থেকেই সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে দ্বিমুখীতা করাও উচিত নয়। কিন্তু দায়িত্বের শুরু থেকে বুলবুলের এমন আচরণ সংবাদ মাধ্যমের বিরক্তির কারণ হয়েছে। যা এখন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের সুনামের জন্য ক্ষতির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

