পিএসএলে কোনো চুক্তিই করেননি মুজারাবানি, ভঙ্গ হলো কীভাবে?

আইপিএলে গতির ঝড় তুলেছেন ব্লেসিং মুজারাবানি।
মোস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প হিসেবে চলতি আইপিএলে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। কিন্তু আইপিএলে বেছে নিতে গিয়ে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) রোষানলে পড়েছেন। পিএসএলের সঙ্গে ‘চুক্তি ভঙ্গের দায়ে’ পিসিবি তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে মুজারাবানির প্রতিনিধিরা বলছেন, কোনো লিখিত চুক্তিই সই হয়নি, তাই ভঙ্গের প্রশ্নও ওঠে না।
পিএসএলের দাবি, ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপির বিনিময়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলার কথা ছিল মুজারাবানির। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আইপিএলের প্রস্তাব পেয়ে তিনি পিএসএল থেকে সরে দাঁড়ান। একে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য করে তার ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করে পিসিবি। ফলে আগামী দুই মৌসুম তিনি পিএসএলে খেলতে পারবেন না।
এরই ধারাবাহিকতায় মুজারাবানির ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস এক্সচেঞ্জ’ নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র মুজারাবানিকে পাঠানো হয়নি। তাই এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বাড়াবাড়ি’ দাবি করেছে মুজারাবানির এজেন্সি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনি এমন কোনো চুক্তি ভঙ্গ করতে পারেন না, যেট আপনি কখনো করেননি। পিএসএল কর্তৃপক্ষ যে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অবিশ্বাস্য রকমের বাড়াবাড়ি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেতে হলে বৈধ চুক্তির প্রয়োজন হয়, যা কখনোই আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক ভুলের দায় খেলোয়াড়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।’
এজেন্সি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ২৭ ফেব্রুয়ারি যখন কেকেআর মুজারাবানিকে প্রস্তাব দেয়, তখন অন্য কোনো লিগের সঙ্গে তার কোনো চুক্তি বা আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তাই পিএসএল কর্তৃপক্ষকে এই ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা পিএসএলকে অনুরোধ করছি তারা যেন মার্জিতভাবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাদের লিগের পক্ষ থেকে হওয়া এই ত্রুটি সংশোধন করে।’
মাঠের বাইরের এই বিতর্ক মুজারাবানির বোলিংয়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। নিজের প্রথম ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে আইপিএলে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই জিম্বাবুইয়ান। এখন দেখার বিষয়, মুজারাবানির এজেন্সির দাবির প্রেক্ষিতে পিসিবি কী পদক্ষেপ নেয়।



