ছাদখোলা বাসে সুলিভানদের উজ্জ্বল সন্ধ্যা

ছাদখোলা বাসে সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের শিরোপা উৎসব। ছবি: আগামীর সময়
লাল-সবুজ বাসটির গায়ে লেখা ছিল ‘ইতিহাস গড়া অনূর্ধ্ব-২০ দলকে অভিনন্দন।’ গতবার খুব কাছে গিয়েও ফাইনাল হেরেছিল ভারতের মাটিতে। এবার তাদের হারিয়ে নিয়েছে প্রতিশোধ। মধুর প্রতিশোধ। তাই দেশে ফেরা ফুটবল বীরদের ছাদখোলা বাসে করে ঢাকা ঘুরিয়ে হাতিরঝিলে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
এমন গৌরবের দিন সোনালী ট্রফি হাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে সবার আগে বের হয়ে আসেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হাতে তুলে দেন বিজয়ের ট্রফি। সে কী আনন্দ তার, ২০০৩ সালে যিনি পুরো জাতিকে সাফ জয়ের গৌরবে ভাসিয়েছিলেন, ২৩ বছর পর তিনি মন্ত্রী হয়ে বিজয়ান্দে ভেসে গেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের ফুটবলারদের সঙ্গে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তোলা ছবিতে তিনিও অংশীদার হয়ে গেলেন গৌরবের ইতিহাসের।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তার সেই সোনালী দিনে ফিরে গেলেন, ‘২০০৩ সালে আমরা সাফ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। আজ আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ দল যুব সাফ জিতে দেশের মাটিতে পা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের উ্ৎসাহিত করার জন্য আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’
বিমানবন্দর থেকেই বীরদের মুখোমুখি দেশের সংবাদ মাধ্যম। যে যার মতো করে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে উঠে গেছেন বাসে। যেভাবে সাফজয়ী সোনার মেয়েদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তাদের তোলা হয়েছে ছাদখোলা বাসে।
বাসের ছাদে মিউজিক সিস্টেম ছাড়ার আগেই ফুটবলারদের উদযাপন শুরু। নেচে-গেয়ে একাকার তারা। গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য সোনালী ট্রফি তুলে দেন বিজয়ের নায়ক রোনান সুলিভানের হাতে। টাইব্রেকারে তার শেষ শটে করা গোলের সুবাদেই ৪-৩ গোলে জেতে বাংলাদেশ।
রোনান সুলিভান ট্রফি নিয়ে চুমু খান। বাংলাদেশের ফুটবল জাগরণের তরুণ নেতা হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি তার পায়ে। এর আগে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার উল্লাস চোখে পড়েছে সবার।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যাশা, ‘এ জয় বাংলাদেশ ফুটবলকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। আশা করি এই দলের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে খেলার জন্য প্রস্তুত হবে। এই দলের সাফল্য কাজে লাগিয়ে আমরা আগামীর বাংলাদেশে শুধু ফুটবল নয়, সকল ক্রীড়াকেই অনেকদূর এগিয়ে নিতে পারবো।’

