হামজার চোখে বাংলাদেশের সমর্থকরা ‘বিশ্বসেরা’

সংগৃহীত ছবি
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৩১ মার্চ ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশি সমর্থকদের বিশ্বসেরা সমর্থক দাবি করেন হামজা চৌধুরী। একই সঙ্গে এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে
প্রশ্ন: আজকের (৩১ মার্চ) ম্যাচের (সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে) ফলাফল নিয়ে যদি কিছু বলতেন। আমি জানি এটি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নয়, তবে ব্যবধানটা ছিল খুবই কম। আপনার কী মনে হয় না এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ এই গ্রুপের অন্যান্য দলগুলোর কতটা কাছাকাছি পৌঁছে গেছে?
হামজা চৌধুরী: হ্যাঁ, একদম তাই। আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। আমি এখানে আসার এই এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক উন্নতি করেছি। সিঙ্গাপুরের মতো দল যারা ইতোমধ্যেই কোয়ালিফাই করে ফেলেছে, তাদের মাটিতে এসে আমরা যেভাবে ফুটবল খেলেছি তা নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। এটি আমাদের পরবর্তী ক্যাম্পেইনের জন্য ভালো একটা ভিত্তি তৈরি করে দেবে। সিঙ্গাপুর বেশ শক্তিশালী দল, তাই তাদের বিপক্ষে এমন খেলা অবশ্যই খুব ইতিবাচক একটি দিক।
প্রশ্ন: আপনি ঠিক এক বছরের কথা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের জার্সিতে আপনারও অভিষেকের ঠিক এক বছর পার হয়েছে, সেটা কেমন ছিল?
হামজা চৌধুরী: অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলোর একটি। আমি চাইনি এটি অন্য কোনোভাবে কাটুক। অবশ্যই কোয়ালিফিকেশনের ব্যাপারটি মাথায় আছে, তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে। হারলে সবাই হতাশ হয়, কোচও হতাশ। তবে আমি নিশ্চিত যে আমরা যখন ম্যাচের ভিডিওগুলো আবার দেখবো, তখন বুঝতে পারবো দল হিসেবে আমরা কতোটা উন্নতি করেছি।
প্রশ্ন: দর্শকদের উপস্থিতি আর চিৎকার দেখে এটা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল যে, এটি বাংলাদেশের অ্যাওয়ে ম্যাচ (বিদেশের মাটিতে খেলা)। বিদেশের মাটিতেও এমন সমর্থন পেয়ে কেমন লাগছে?
হামজা চৌধুরী: এটি অবিশ্বাস্য! আমি এইমাত্রই ওখানে বলছিলাম যে, আমার মনে হয় ওরাই বিশ্বের সেরা সমর্থক। তারা কষ্ট করে অনেক দূর ভ্রমণ করেছেন, নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে এখানে এসেছেন আমাদের খেলা দেখতে। যদিও আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি এবং দিনটি ছিল প্রায় সিঙ্গাপুরের জন্য একটি উৎসবের মতো- তা সত্ত্বেও তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন যা অতুলনীয়। আমরা তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি তারা এভাবেই আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবেন।
প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন। আপনার এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে?
হামজা চৌধুরী: আশা করি সামনে ভালো কিছু হবে। সম্ভবত এই গ্রীষ্মে আমাদের কিছু প্রীতি ম্যাচ থাকবে এবং এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে আমরা জয়ের প্রত্যাশা করি। দেশের মানুষের এবং আমাদের নিজেদের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা এখন তৈরি হয়েছে, কারণ আমরা ইদানিং বেশ ভালো খেলছি। এরপর ২০২৭ ক্যাম্পেইনের দিকে তাকিয়ে আছি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা লক্ষ্য অর্জনে সফল হব।

