অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেলেন ইরানের ৫ নারী ফুটবলার

ইরানের পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছে, অথচ ফুটবলাররা ঠোঁট নড়াচ্ছেন না! সবাই স্থির। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে এভাবেই প্রতিবাদ জনিয়েছিল নারী ফুটবল দল। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তখন বলা হয় খেলোয়াড়রা ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’।
তখন থেকেই চাপের মুখে ছিলেন ইরানি নারী ফুটবলাররা। দাবি উঠতে থাকে তাদের অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয় দেওয়ার। সেই দাবিতে ইরানের প্রয়াত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি, হ্যারি পটার স্রষ্টা জে কে রাউলিং, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইনার জাকি হায়দারির সঙ্গে শামিল হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
অবশেষে ইরানের পাঁচ ফুটবলারকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। সেই পাঁচ খেলোয়াড়দের আবেদনে সাড়া দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটিতে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন ইরানের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি, ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ ও মোনা হামৌদি।
পাঁচ ফুটবলারকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তারা এখানে নিরাপদ।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে। পাঁচ খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে আছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
অন্য ২১ খেলোয়াড়ের কী হবে
যুদ্ধের মাঝে এশিয়ান কাপে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেননি ইরানি ফুটবলাররা। তিনটা ম্যাচই হেরেছে তারা। তবে দর্শকরা সবসময় উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন খেলোয়াড়দের। ফিলিপাইনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর স্টেডিয়ামের বাইরে ড্রাম বাজিয়ে দর্শকরা স্লোগান তোলেন ‘সেভ আওয়ার গার্লস’। তাদের ইরানে ফেরত না পাঠানোর দাবিও তোলেন সমর্থকরা।
পাঁচ খেলোয়াড়ের আশ্রয় পাওয়ার পর তাই প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্য ২১ খেলোয়াড় ও স্টাফদের কী হবে? এ নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানালেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিন ধরে গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। দলের বাকি সদস্যরাও চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন। এজন্য আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে তাদের।’
দলের অন্য ২১ খেলোয়াড় আশ্রয় প্রার্থনা করে আবেদন করেছেন কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

