২০০১ সালেই ইউরোপীয় দলের সঙ্গে খেলেছে বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক! ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমবার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ২১১ নম্বরে থাকা সান মারিনোর বিপক্ষে খেলা হলেও তাই উচ্ছ্বসিত বাফুফে। তবে, এটাই ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ নয় বাংলাদেশের। ইতিহাস বলছে, আগেও দুটি ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে খেলেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
সালটা ২০০১। চার মহাদেশের ১৬ দল নিয়ে সাহারা কাপ আয়োজন করে ভারত। শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, ইরাক ও ক্যামেরুন টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করলে ১৩ দল নিয়েই মাঠে গড়ায় সাহারা কাপ।
সাহারা কাপের সেই আসরে এশিয়া মহাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। তারা ছিল গ্রুপ-১ এ। এই গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ছিল ইউরোপের দুই দেশ বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও যুগোস্লাভিয়া। গ্রুপের চতুর্থ দল ছিল ইরাক, তবে তারা আগেই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়।
দুই ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১২জানুয়ারি কোচিতে বসনিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে আলমেদিন হোতার জোড়া গোলে বাংলাদেশকে ২-০ ব্যবধান হারায় বসনিয়া।
গ্রুপের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার কাছেও হেরে বসে বাংলাদেশ। এই ম্যাচও হয়েছিল কোচিতেই। বাংলাদেশকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় যুগোস্লাভিয়া। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে ষষ্ঠ মিনিটে ফিরোজ মাহমুদের পা থেকে। দুই ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
এই টুর্নামেন্টে প্রায় সব দলই তাদের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারির স্কোয়াড পাঠায়। জাপান তো পাঠিয়েছিল তাদের বিশ্ববিদ্যালয় দলকেই। টুর্নামেন্টের ফাইনালে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল যুগোস্লাভিয়া।
একমাত্র দেশ হিসেবে জাতীয় দল পাঠিয়েছিল শুধু বাংলাদেশ। অথচ চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিল বাংলাদেশই! একই গ্রুপে থাকা যুগোস্লাভিয়ার খেলোয়াড়দের পাঁচ তারকা হোটেলে রাখা হলেও বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দ ছিল থ্রি স্টার হোটেল!



