রিয়াল মাদ্রিদে গৃহযুদ্ধ, ভালভার্দে-চুয়ামেনির হাতাহাতি!

ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে আগামী রবিবার হাইভোল্টেজ ‘এল ক্লাসিকো’। অথচ তার আগে রিয়াল মাদ্রিদের অন্দরমহল যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। অনুশীলনে সতীর্থদের হাতাহাতি, কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে সিনিয়রদের কথা বলা বন্ধ এবং ড্রেসিংরুমের ভেতর দলাদলি- সব মিলিয়ে রিয়ালের ড্রেসিংরুম এখন খণ্ডবিখণ্ড। এমনকি তরুণ আর্জেন্টাইন প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর সঙ্গে সিনিয়রদের বৈষম্যমূলক আচরণের খবরও সামনে এসেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ভালদেবেবাসে অনুশীলনের সময় ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা দ্রুতই রূপ নেয় ধাক্কাধাক্কিতে। মাঠের সেই ঝগড়া ড্রেসিংরুম পর্যন্ত গড়ায়। ভালভার্দে দলের অন্যতম অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও এমন আচরণে হতবাক ক্লাব সংশ্লিষ্টরা। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কারণ, কয়েকদিন আগেই রুডিগার ও আলভারো কারেরাসের মধ্যেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। রিয়ালের অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্র আরও ভয়াবহ। জানা গেছে, অন্তত ছয়জন সিনিয়র ফুটবলার কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। সাংবাদিক মিগুয়েল সেরানো দাবি করেছেন, দানি কারভাহাল অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক একদমই ভালো নয়। এমনকি ডেভিড আলাবার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাও দলের ঐক্য ধরে রাখার চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
রিয়ালের আর্জেন্টাইন বিস্ময়বালক ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর ভূমিকা নিয়েও নতুন তথ্য মিলেছে। দলের তরুণ এই খেলোয়াড় ফিজিওদের কাছে সেশন নিতে গিয়ে সিনিয়রদের দ্বারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছিলেন। রিয়ালের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়ররা আগে সুবিধা পান, যা নিয়ে মাস্তানতুয়ানো তৎকালীন কোচ জাবি আলোনসোর কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। সিনিয়র ও তরুণদের এই দ্বন্দ্বই রিয়ালের ড্রেসিংরুমকে মূলত বিভক্ত করেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়েও রিয়ালে চরম ঝামেলা চলছে। ইনজুরি থাকাকালীন সময়ে ফরাসি তারকার বিদেশ ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ক্লাবের কর্তারা বেশ বিরক্ত। সমর্থকেরা তো এমবাপ্পেকে ক্লাব থেকে বিতাড়িত করতে রীতিমতো গণসাক্ষর সংগ্রহ করছেন! সতীর্থরাও তার ‘অহঙ্কারী মনোভাব’ পছন্দ করছেন না। কোচ আরবেলোয়া কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে বড় কোনো খেলোয়াড় ছিল না, আর ভবিষ্যতেও আসবে না।’
৩৪ রাউন্ড শেষে বার্সেলোনার চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়ালের সামনে এবার কোনো শিরোপা জেতার সুযোগ নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা দেল রে থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করছে আগামী রবিবারের এল ক্লাসিকোতে। ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনা কেবল এক পয়েন্ট পেলেই রিয়ালকে সাক্ষী রেখে লা লিগার শিরোপা উদযাপন করবে। মাঠের ব্যর্থতা আর মাঠের বাইরের গৃহযুদ্ধ- সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এখন ইতিহাসের অন্যতম বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।





