প্রতিনিয়ত ডুবছে বসুন্ধরা কিংস

বেতন বকেয়া থাকায় অনুশীলন বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন বসুন্ধরার ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত
বসুন্ধরা কিংসের রমরমা অবস্থা আর নেই। অর্থের ঝনঝনানিতে তারা সেরা দল গড়ে সাফল্য পেয়েছে প্রথম পাঁচ মৌসুম, জিতেছে পাঁচ লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠা পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তবে সেসব চেষ্টা ও ইচ্ছায় লেগেছে ভাটার টান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই যেন চোরাবালিতে প্রতিনিয়ত ডুবছে ক্লাবটি।
ভিনদেশি ফুটবলার-কোচদের বেতন বকেয়ার একের পর এক অভিযোগে ফিফার কাছ থেকে নেমে এসেছে ১০টি নিষেধাজ্ঞা (ট্রান্সফার ব্যান)। সামনের দিনগুলোতে সেটি বাড়ার আশঙ্কাই বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্থানীয় ফুটবলারদের ঠিকঠাক বেতন পরিশোধ না করা। এ সুবাদে চলতি মৌসুম জুড়েই সুখ নেই বসুন্ধরা শিবিরে। অসন্তোষ বাড়ছে ফুটবলারদের মধ্যে। অসুখী মনে একের পর এক ম্যাচ খেলছেন তারা।
দলের বিদেশি ফুটবলাররা বেতন না পাওয়ায় শুক্রবার বয়কট করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচ। মানিকগঞ্জে সেই ম্যাচে রহমতগঞ্জের কাছে পয়েন্ট খুইয়েছেন তারা।
দিন চারেক আগে একযোগে । গত বুধবার ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের আশ্বাসে অনুশীলন করেছেন, লিগের ম্যাচও খেলেছেন স্থানীয়রা। বেতন-বকেয়া নিয়ে হতাশা থাকলেও মাঠে এখনো নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন, দলকে রেখেছেন কক্ষপথে। রহমতগঞ্জের সঙ্গে ১-১ ড্র করলেও লিগ টেবিলে এখনো শীর্ষে তারা। তবে এমনটা চলতে থাকলে খেলায় মনোযোগ কমবে, হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজেদের সেরাটাও হয়তো এক সময় দিতে চাইবেন না ফুটবলাররা।
এ সবই জানা, ক্লাবটির দুদে কর্তাদের। একটা সময় যারা আগেভাগেই সব আবদার মিটিয়ে দিতেন, সেই কর্তারাই যেন সব উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। সমস্যা সমাধানের বড় কোনো উদ্যোগ সহজে নিচ্ছেন না। তাতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে দিনকে দিন। ফিফার ট্রান্সফার ব্যানের কারণে মধ্যবর্তী দলবদলে কোনো নতুন খেলোয়াড় নেওয়া যায়নি। সুরাহা না করলে সামনের দলবদলেও অংশ নিতে পারবে না। ৩১ মার্চের মধ্যে ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে উদ্যোগ না নেওয়ায় এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্ত পূরণ করা যায়নি। ফলে আসন্ন এএফসির টুর্নামেন্টে বসুন্ধরার খেলা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা আছে।
বসুন্ধরার করুণ দশা
• ফিফায় বিদেশি কোচ-খেলোয়াড়দের ১০ অভিযোগে নেমে এসেছে ট্রান্সফার ব্যান
• ৩১ মার্চের মধ্যে ফিফার শাস্তি তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিশ্চিত এএফসির টুর্নামেন্ট
• দুই মৌসুমে বেতন বকেয়া পড়ায় অসন্তোষ বাড়ছে ফুটবলারদের মধ্যে
• আর্জেন্টাইন কোচ মারিও গোমেজ লিগের প্রথম পর্বের পর আর ফেরেননি
ফিফায় জমা হওয়া অভিযোগের ক্ষতিপূরণ বাবদ যে পরিমাণ টাকা দিতে হবে, অনেকের ধারণা, সেই অঙ্কে আগামী দুই মৌসুমে সেরা দল গড়া যায়! এদিকে লিগের প্রথম পর্ব শেষে আর ফেরেননি বসুন্ধরার আর্জেন্টাইন কোচ মারিও গোমেজ। জানা গেছে, তারও কয়েক মাসের বেতন বকেয়া। ফলে তিনিও ফিফায় অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রহমতগঞ্জের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কথা হয় দলের একজনের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিলেন ভয়ংকর তথ্য, 'শুধু চলতি মৌসুম নয়, বেশিরভাগ খেলোয়াড় গত মৌসুমের বকেয়াও ঠিকঠাক বুঝে পায়নি। গত ঈদের আগে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি বকেয়ার তুলনার অনেক কম। অনেকের গত মৌসুমের বেতনও বকেয়া আছে। তাই ফুটবলাররা অনুশীলন না করার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কিছু একটা ব্যবস্থা হবে— শীর্ষ কর্তাদের এমন আশ্বাসে অনুশীলন বয়কট করেনি, ম্যাচও খেলেছে।
তবে বিদেশিদের বোঝানো যায়নি। তাদের ছাড়াই খেলতে হয়েছে গত ম্যাচ। কোচদের অবস্থা আরও শোচনীয়। এই মাস পার হলে ১২ মাসের বকেয়া পড়বে। তবে দলের সবাই আশায় আছি গ্রুপ এমডির (সায়েম সোবহান আনভীর) দেশে ফেরার। তিনি ফিরলেই আশা করছি সব সমস্যা দূর হবে এবং ট্রান্সফার ব্যানও উঠে যাবে।'
বসুন্ধরার সমস্যার মূলে অর্থপ্রবাহ থেমে যাওয়া। একই কারণে সমস্যায় আছে আবাহনীসহ আরও কয়েকটি ক্লাবও। ফিফা আবাহনীকেও তিনটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রান্সফার ব্যান দিয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে দুটি ব্যান দেওয়া হয়েছে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে। মোহামেডানের বিরুদ্ধে একটা ব্যান ছিল। ক্লাবটি নির্ধারিত সময়ের আগে বেতন পরিশোধ করায় সেই ব্যান উঠে গেছে। ফলে তাদের সুযোগ আছে এএফসির টুর্নামেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার।
ব্যানের তালিকায় আরও আছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও ফেনী সকারের নাম। আওয়ামী সরকার পতনের পর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব আর ফুটবল দল গড়েনি। অন্যদিকে, ফেনী সকারের মূল পৃষ্ঠপোষক বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।



