তুরস্কে হামলা ইরানের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের কোণায় কোণায় পৌঁছে গেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। এবার দেশটি তুরস্কের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। যদিও এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি তুরস্কের।
এর মাধ্যমে ইরান যে তুরস্ককেও এই যুদ্ধে টেনে আনতে চাইছে, তা মূলত স্পষ্ট। তবে অবসরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মার্ক কিমিট মনে করছেন, তুরস্কে হামলা ইরানের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্কে হামলার প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন এই জেনারেল বলেছেন, ভারত মহাসাগরে আমেরিকার ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়েও তুরস্কে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বেশি সমস্যাজনক ছিল।
কিমিটের মতে, ইরানের এই হামলা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো দিয়ে ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা। এছাড়া ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, জাহাজে আনুমানিক ১৮০ জন ক্রু ছিলেন।
তুরস্ক উপসাগরীয় দেশ না হওয়ার পরও তাকে এই সংঘাতে টেনে আনার চেষ্টা করেছে তেহরান, অভিমত মার্কিন এই জেনারেলের। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এটি ইরানি সামরিক বাহিনীর একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা ছিল। এমন দেশে তারা হামলা চালিয়েছে যা সরাসরি উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
তুরস্ক যে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কিমিট জানিয়েছেন, এটি ইরানের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বুধবার ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করেছে এবং জোট এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তুরস্ক ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোনে জানিয়েছেন যে, ইরানি বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

