অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ শিক্ষার্থীর ভিসা প্রত্যাখ্যান

সংগৃহীত ছবি
অস্ট্রেলিয়া সরকার এই বছর রেকর্ড সংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। সরকারের এই কর্মকাণ্ডকে ‘দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভরা’ এবং ‘থামা-চলার’ নীতি হিসেবে সমালোচনা করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডভোকেসি সংগঠন ইউনিভার্সিটিস অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৫১ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাননি। একই সময়ে নেপালের ৬৫ শতাংশ, ভারতের ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানের ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
অস্ট্রেলীয় এডুকেশন কনসালটেন্টদের মতে, প্রকৃত শিক্ষার্থী’ যাচাইয়ে কঠোরতা এবং আবেদনপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি এই উচ্চ হারে প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ। তবে গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির পর হঠাৎ নীতির এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়েছে চরম বিভ্রান্তিতে।
উচ্চ ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরও। কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘রিস্ক রেটিং’ নির্ধারণে ভিসা রিজেকশনের হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে সেই প্রতিষ্ঠান কতজন শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে পারবে এবং তাদের আবেদন কতটা অগ্রাধিকার পাবে।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অফ অস্ট্রেলিয়া’ রিস্ক রেটিং পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই বিশাল হার উপেক্ষা করার মতো নয়। এটি উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য অশনিসংকেত।
ইউনিভার্সিটিস অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী লুক সিহি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় অনুভূত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারের একটি স্থিতিশীল নীতি প্রয়োজন, কোনো ‘থামা-চলার’ নীতি নয়, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার একদিকে অভিবাসন কমানোর জন্য ‘ওয়ান নেশন পার্টি’ এবং বিরোধী রাজনৈতিক জোটের চাপের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বাড়ানোর দাবি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। দেশটির সাম্প্রতিক আবাসন সংকটের জন্য উচ্চ অভিবাসন হারকে দায়ী করছেন পলিন হ্যানসনের অভিবাসনবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’ ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক জোট।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে নেট অভিবাসন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজারে। এটি আগের বছরের তুলনায় কম হলেও এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সাবেক এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মতে, এই ধারা চলতে থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। তাই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকার শিক্ষার্থী ভিসাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে কড়াকড়ির মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভিসা আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ, ভারতের ৩৬ শতাংশ এবং নেপালের ৯১ শতাংশ।



