আগামীর সময়

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা নিরাপদ নয়: ব্রিটিশ এমপি

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা নিরাপদ নয়: ব্রিটিশ এমপি

স্যার এড ডেভি

‘দেশের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা এখন আর নিরাপদ নয়’, এমনটাই বলছিলেন ব্রিটিশ সাংসদ ও লিবারেল ডেমোক্র‍্যাট নেতা স্যার এড ডেভি। রবিবার ইয়র্ক শহরে দলের বসন্তকালীন সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার আহ্বান তার কণ্ঠে।

যুক্তরাজ্যের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ দেশটির হাতে থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নির্ভর করতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ওপর। বিশেষ করে ট্রাইডেন্ট নিউক্লিয়ার মিসাইল সিস্টেম সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেভি মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্প দেখিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আগের মতো নির্ভর করা যায় না। আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ওভাল অফিসে বসা ব্যক্তির সকালের মেজাজের ওপর নির্ভর করতে পারে না।’

‘ব্রিটেনের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবিক অর্থেই পুরোপুরি আমাদের হতে হবে। ট্রাম্প বা ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভরশীল নয়’, দলীয় প্রতিনিধিদের সতর্ক করেন তিনি।

ডেভির ভাষ্য, আগামী দুই দশক ট্রাইডেন্ট ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা আনার প্রস্তুতির সময়। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যাতে আগামী দুই দশকে প্রয়োজনীয় বিপুল বিনিয়োগ যুক্তরাজ্যেই করা হয়। ব্রিটেনে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও নির্মাতারা আছেন। তাই আমাদের উচিত এখানেই একটি সত্যিকারের স্বনির্ভর পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এতে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী হবে উল্লেখ করে লিবারেল ডেমোক্র‍্যাট নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আমরা ব্রিটিশ বিজ্ঞান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ করব। আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করব এবং এমন একটি পূর্ণ স্বাধীন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলব যার ওপর আমরা নির্ভর করতে পারব। হোয়াইট হাউসে যে-ই থাকুক না কেন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পর বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা তৃতীয় দেশ যুক্তরাজ্য। শুরুতে এসব অস্ত্র বহন করত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিমান। তবে ষাটের দশক থেকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় চুক্তির আওতায় পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন বহর পরিচালনা করছে। এসব সাবমেরিন সব সময় সমুদ্রে টহলে থাকে।

ইউরোপের পারমাণবিক অস্ত্রধারী আরেকটি দেশ ফ্রান্স, যারা সম্পূর্ণ স্বনির্ভর একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বলছে, ফ্রান্সের উদাহরণই প্রমাণ করে ব্রিটেনের পক্ষেও নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

সত্তরের দশকে ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যয় বর্তমান মূল্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ড ছিল বলে ধারণা করা হয়। দলটির মতে, এমন ব্যয় দুই দশকে ধাপে ধাপে বহন করা সম্ভব। ডেভি দুটি ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন।

‘বর্তমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। আমাদের স্বাধীন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে এবং এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা’,
ডেভির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

তবে প্রবীণ নেতা ডেভির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তার দাবি, ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে যখন পাঁচ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে তখন বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

    শেয়ার করুন: