ট্রাম্পের উদ্দেশে গোপন চিঠি ফিদেল কাস্ত্রোর নাতির

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাউল রদ্রিগেজ কাস্ত্রো
কূটনৈতিক নোটের মতো সাজানো। ওপরে কিউবার সরকারি সিলমোহর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এমনই একটি চিঠি। ফিদেল কাস্ত্রোর নাতি রাউল রদ্রিগেজ কাস্ত্রো লিখেছিলেন এটি।
রাউল রদ্রিগেজ কাস্ত্রো হাভানায় এক ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেন চিঠিটি। তার আশা ছিল হোয়াইট হাউসে পৌঁছাবে এটি। আর এই চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছিল, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিউবা ।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল।
চিঠিতে প্রস্তাব দেওয়া হয় কিউবার জন্য অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তির, পাশাপাশি জানানো হয় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আহ্বানও।
চিঠি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী কিউবান ব্যবসায়ী রবার্তো কার্লোস চামিজো গনসালেস। তাকে মিয়ামির কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা আটক করে চিঠিটি জব্দ করেন। এরপর তাকে ফেরত পাঠানো হয় হাভানায়।
ট্রাম্প একাধিক মন্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিউবায় সামরিক অভিযান চালানোর। এমন প্রেক্ষাপটে এলো এই চিঠি।
বুধবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র ইউএসএ টুডেকে জানায়, ট্রাম্প যদি দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেন, সে ক্ষেত্রে তৈরি করা হচ্ছে বিকল্প পরিকল্পনা।
ট্রাম্প এখনো কিউবায় হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি। তবে আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘তার জন্য সম্মানের হবে কিউবা দখল করা’ এবং সেখানে ‘যা ইচ্ছা তাই করবেন’ তিনি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, এই সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগনকে সরাসরি হোয়াইট হাউস থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে।
হোয়াইট হাউস চিঠিটি পেয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কেন ওই দূতকে বিমানবন্দরে থামানো হয়েছিল, সেটিও পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস।
এই চিঠিকে দেখা হচ্ছে হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা শুরুর এক অপ্রত্যাশিত চেষ্টা হিসেবে। এতে চেষ্টা করা হয়েছে অর্থনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্পকে আকৃষ্ট করার।
‘ব্যাক চ্যানেল টু কিউবা: ওয়াশিংটন ও হাভানার গোপন আলোচনার ইতিহাস’ বইয়ের সহ-লেখক পিটার কর্নব্লুহ। তার মতে, ‘মনে হচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি ট্রাম্পের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাতে চাইছে কিউবা।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই প্রচেষ্টা থেকে বোঝা যায় তারা আর রুবিওকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাস করছে না। ক্রমবর্ধমান সংকট সমাধানে তারা চাইছে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যেতে।’



