যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের চার কর্মী দোষী সাব্যস্ত

সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস ইউকের একটি স্থাপনায় ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনায় চার ব্রিটিশ ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। একই মামলায় খালাস পেয়েছেন আরও দুজন।
মঙ্গলবার লন্ডনের উলউইচ ক্রাউন কোর্টে দেওয়া হয় এই আদেশ। সাজাপ্রাপ্ত চার জন হলেন, শার্লট হেড (৩০), স্যামুয়েল কর্নার (২৩), লিওনা কামিও (৩০) ও ফাতেমা জয়নব রাজওয়ানি (২১। খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন জো রজার্স (২২) ও জর্ডান ডেভলিন (৩১)।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, ছয়জনই প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সদস্য। ২০২৪ সালের আগস্টে ব্রিস্টলের ফিলটনে এলবিটের গবেষণা ও উন্নয়ন স্থাপনায় এক অভিযানে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ডের ক্ষতি করেছে তারা। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ মাস পর।
অভিযানের সময় হাতুড়ি দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আঘাতের অভিযোগে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে স্যামুয়েল কর্নারকে।
বিচারে ছয় আসামিই স্বীকার করেছেন, স্থাপনাটির ভেতরে ইসরায়েলি সামরিক ড্রোন ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলেন তারা।
তাদের আইনজীবীদের ভাষ্য, ‘ফিলিস্তিনে জীবন বাঁচাতে’ এ কাজ করেছিলেন তারা। এক বিবৃতিতে আরও বলেছেন, ইতোমধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো থেকে রেহাই পেয়েছেন আসামিরা। মাথা উঁচু করেই এই বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। রায় যা-ই হোক না কেন, ইসরায়েলি সামরিক ড্রোন ধ্বংসে নেওয়া তাদের পদক্ষেপ সম্ভবত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে ফিলিস্তিনে, এই বিশ্বাস নিয়েই আদালতে এসেছেন তারা।
এর আগে আরেক বিচারে গুরুতর চুরির অভিযোগ থেকে খালাস পান ছয়জনই। তবে তখন ভাঙচুরের অভিযোগে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জুরি। পরে তাদের বিরুদ্ধে সহিংস বিশৃঙ্খলার অভিযোগও প্রত্যাহার করেন প্রসিকিউটররা।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মীরা প্রবেশের কয়েক দিন পর গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি ঘোষণা করেন লন্ডনের হাইকোর্ট। তবে সরকারের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধই থাকছে সংগঠনটি।
এলবিট সিস্টেমসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কর্মী প্রায় ২০ হাজার এবং বার্ষিক আয় প্রায় ২০০ কোটি ডলার।



