১০ বছর আইনি লড়াই
বন্ধ্যাকরণের অনুমতি পেলেন ব্রিটিশ নারী

১০ বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বন্ধ্যাকরণের অনুমতি পেয়েছেন এক ব্রিটিশ নারী। দেশটির স্বাস্থ্য ন্যায়পাল তাকে এ অনুমতি দেন। ওই নারী পরে অনুতপ্ত হতে পারেন— এই যুক্তিতে এর আগে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) প্রত্যাখ্যান করে তার আবেদন।
অক্সফোর্ডশায়ারের মনোবিজ্ঞানী লিয়া স্পাসোভা বহু বছর ধরে এনএইচএসের মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ করানোর চেষ্টা করছেন। যখন একই সময়ে ওই নারীর স্বাস্থ্যসেবার অর্থ পুরুষদের ভ্যাসেকটমি (পুরুষদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ) পেছনে ব্যয় করা হয়। এনএইচএস সম্পর্কিত অভিযোগ তদন্তকারী পার্লামেন্টারি অ্যান্ড হেলথ সার্ভিস ওম্বাডসম্যান (পিএইচএসও) এ নিয়ে তদন্ত করে। তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, একটি স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থা পুরুষদের নয়, বরং নারীদের বন্ধ্যাকরণের জন্য অর্থায়ন প্রত্যাখ্যান করছিল।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বাকিংহামশায়ার, অক্সফোর্ডশায়ার ও বার্কশায়ার ওয়েস্ট ইন্টিগ্রেটেড কেয়ার বোর্ড (আইসিবি) ওই নারীর বন্ধ্যাকরণের অর্থায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এরপর স্পাসোভা পিএইচএসওর কাছে অভিযোগটি উত্থাপন করেন।
স্পাসোভার অভিযোগ, আমি ১০ বছর ধরে বন্ধ্যাকরণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছি এবং শুধু বিভিন্ন সেবার মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছি। এরপর আইসিবি আমার অর্থায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আইসিবির নীতিমালা নিয়ে নিজে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সংস্থাটি সেই সুপরিচিত নীতিটি অনুসরণ করেনি। নীতিটি হলো— চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের নিজ শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেন রোগীরাই।
স্বাস্থ্য ন্যায়পাল সিদ্ধান্তে জানান, আইসিবি নিয়মিতভাবে নারীদের বন্ধ্যাকরণের জন্য অর্থায়ন করে না। তারা খরচের উদ্বেগ ও ভবিষ্যতে অনুতপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এটি ভ্যাসেকটমি করাতে চাওয়া পুরুষদের ক্ষেত্রে করা হয়নি প্রয়োগ।
পিএইচএসও জানায়, আইসিবির এই পদ্ধতি ছিল অন্যায্য, অসংগতিপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত মতামতের ওপর ভিত্তি করে। এ ছাড়া দেখা গেছে, নারীদের বন্ধ্যাকরণ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার একই সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা পুরুষদের দেওয়া হয়।
ন্যায়পাল পাউলা সাসেক্স বললেন, স্বাস্থ্যসেবা রোগীদের হতাশ করছে— এমন উদ্বেগ রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, এ ঘটনা রোগীর কণ্ঠের শক্তি দেখায়। লিয়া তার অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন এবং এখন আইসিবি তাদের বন্ধ্যাকরণ নীতি পুনর্বিবেচনা করছে।
স্পাসোভা আইসিভির নীতিমালাকে বর্ণনা করেন ‘সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক’ বলে। স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণে প্রবেশাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। নারীদের শরীরের স্বাধীনতার প্রতি ন্যায় ও সম্মানের বিষয়ে উদ্বেগ এখনো সমাধান হয়নি।
বর্তমানে বাকিংহামশায়ার, অক্সফোর্ডশায়ার ও বার্কশায়ারে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা তদারককারী এনএইচএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পিএইচএসওর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। সঙ্গে একটি নতুন নীতি চালু করেছে, যাতে যোগ্য রোগীরা বন্ধ্যাকরণ সেবা পেতে পারেন।
বন্ধ্যাকরণে একজন নারীর ফ্যালোপিয়ান টিউব (গর্ভনালি) ব্লক করা হয়। এটি ৯৯ শতাংশের বেশি কার্যকর। এটি ভ্যাসেকটমির (পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ) সঙ্গে তুলনীয়, যা পুরুষদের জন্য স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি; তবে নারী বন্ধ্যাকরণে বেশি জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। এটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তুলনামূলকভাবে কঠিন। তথ্যসূত্র : সিএনএন



